Home Classes Class 9 CLASS 9|MODEL ACTIVITY TASK|BENGALI PART 4| মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক| – 4 নবম শ্রেনী| বাংলা

CLASS 9|MODEL ACTIVITY TASK|BENGALI PART 4| মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক| – 4 নবম শ্রেনী| বাংলা

6
7035

CLASS 9 MODEL ACTIVITY TASK BENGALI PART 4 -2021(NEW)

মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক – 4

নবম শ্রেনী

BENGALI /বাংলা

১ ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :

১.১ঈশান হল— ) উত্তরপূর্বকোণ  খ) উত্তর-পশ্চিম কোণ  গ) দক্ষিণ-পূর্ব কোণ  ঘ) পশ্চিম কোণ

১.২ ‘আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে?’ – প্রশ্নটি করেছে

ক) সূচক  খ) জানুক  ) ধীবর  ঘ) রাজশ্যালক

১.৩ ‘বন্ধুগণ হাসবেন না। – একথা বলেছে।

) ইলিয়াস  খ) শাম-শেমাগি  গ) মহম্মদ শা  ঘ) মহম্মদ শার জনৈক আত্মীয়

১.৪ ‘মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে এইটুকুই আমার নগদ লাভ। বক্তার লাভ হয়েছিল

ক) পাঁচ টাকা  ) দশ টাকা  গ) পনেরো টাকা  ঘ) কুড়ি টাকা

১.৫ ‘নোঙর’ কবিতাটি যে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত

ক) কুসুমের মাস  ) সাদা মেঘ কালো পাহাড়  গ) পাতাল কন্যা  ঘ) ছায়ার আলপনা

২কমবেশি ১৫ টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো:

২.১প্রজা চমকিত।‘ – প্রজা চমকিত কেন ?

উ:- উদ্ধৃতাংশ টি কবি কঙ্কন মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা কলিঙ্গ দেশে ঝড় বৃষ্টি থেকে সংগৃহীত হয়েছে। যেটি চন্ডীমঙ্গল কাব্য গ্রন্থের অন্তর্গত।

     প্রজারা চমকিত কারণ কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি বজ্রপাতের ফলে এক দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়। ঝড়ের দাপটে মাঠের শস্য উপরে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। তা দেখে প্রজারা চমকৃত হয়েছিল।

২.২ ধীবরবৃত্তান্তনাট্যাংশে ধীবরের বাড়ি কোথায় ?

উ:- মহাকবি কালিদাসের রচিত সংস্কৃত নাটক অভিজ্ঞানম শকুন্তলম থেকে আলোচ্য ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশ টি সংগৃহীত হয়েছে। ধীবর শক্রাবতারে থাকে ।

২.৩ ইলিয়াস তো ভাগ্যবান পুরুষ‘- কারা একথা বলত?

উ:-  উদ্ধৃত বাক্যটি লিও টলস্টয় লেখা ইলিয়াস নামক গল্প থেকে সংগৃহীত হয়েছে। ইলিয়াসকে ভাগ্যবান বলতো ইলিয়াসের প্রতিবেশীরা।

২.৪মনে এল মাস্টারমশাইয়ের কথা।‘ – কখন এমনটি ঘটেছে?

উ:-উদ্ধৃত অংশটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘দাম’ গল্প থেকে সংগৃহীত হয়েছে। কথকের মনে মাস্টারমশাইয়ের কথা এসেছিল যখন একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে তার ছেলেবেলার গল্প লেখার ফরমাস এসেছিল।

২.৫ ____ বিরামহীন এই দাঁড় টানা।‘ – কবি দাঁড় টানাকেবিরামহীনবলেছেন কেন?

উ:- আলোচ্য অংশটি কবি অজিত দত্তের লেখা ‘সাদা মেঘ কালো পাহাড়’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত   ‘নোঙর’ কবিতা থেকে সংগৃহীত হয়েছে।

     কবি বিরামহীন দাঁড় টেনে নৌকাটিকে উদ্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যেতে চান। দূর দেশে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছে ব্যাকুল কবির মন অসংখ্য বন্ধনময় অবস্থাকে অতিক্রম করে অজানা লোকে পৌঁছতে চাই। তাই বৃথা প্রচেষ্টা জেনেও তিনি অবিরাম দাড় টেনে  চলেছেন।

৩প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০ টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো

৩.১চন্ডীর আদেশ পান বীর হনুমান।‘ – চন্ডীর পরিচয় দাও। তিনি হনুমানকে কী আদেশ দিয়েছেন?

উ:- ‘কলিঙ্গদেশের ঝড়-বৃষ্টি’ শীর্ষক কাব্যাংশটি শেষ কয়েক ছত্র মা চণ্ডীর আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। মা চন্ডী আদেশে বীর হনুমান কলিঙ্গদেশের সমস্ত দেবালয় এবং বাসগৃহ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। মা চন্ডী আদেশে কলিঙ্গের সমস্ত নদ-নদী গুলির ফুলে-ফেঁপে উত্তাল হয়ে ওঠে এবং তাদের প্রবল ঢেউ এর ধাক্কায় সব বাড়ি ঘর ভেঙে যায়। মনে হয় বাড়ি ঘর গুলি যেন ঢেউ এর মাথায় উঠে টলমল করে ভাসছে।

৩.২কীভাবে এই আংটি আমার কাছে এলতা বললাম।‘ – বক্তা কে? আংটি প্রসঙ্গে সে কী বলেছে?

উ:- কালিদাসের জীবন বৃত্তান্ত নামক নাট্যাংশে জীবনের আংটি পাওয়ার পেক্ষাপটে এক দীর্ঘ কাহিনী রয়েছে। দুর্বাশার অভিশাপে শকুন্তলাকে ভুলে যাওয়া রাজা দুষ্মন্ত যে আংটি দেখে শকুন্তলাকে চিনতে পারত তা সে হারিয়ে ফেলে। সেই আংটি এক রুইমাছ গিলে ফেলে এবং একজন জেলে সেই আংটি খুঁজে পায়। সেই আংটি সে যখন বিক্রি করতে যায় তখন রাজার রক্ষীরা তাকে চুরির অপরাধে ধরে আনে। নিজেকে নিরাপরাধ প্রমান করতেই সে আংটি পাওয়ার বৃত্তান্ত ব্যাখা করেছিল।

৩.৩ মহম্মদ শা কোন্গল্পের চরিত্র তাঁর প্রকৃতি কেমন?

উ:-লিও তলস্তয়ের লেখা ইলিয়াস নামক গল্পের অন্যতম একটি প্রধান চরিত্র হলো মোহাম্মদ শা। ইলিয়াস গল্পের ইলিয়াসের একজন প্রতিবেশী ছিলেন মোহাম্মদ শা। যখন ইলিয়াস দরিদ্র হয়ে পড়ে তখন বৃদ্ধ- বৃদ্ধার প্রতি করুনা করে তিনি তাদের নিজের কাছে আশ্রয় দেন এবং ক্ষমতা অনুসারে কাজ করতে বলেন। তিনি নিজে বড়োলোক না হয়েও ইলিয়াসকে আশ্রয় দান করেছিলেন। তাই বলা যায় তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও ভালো মনের মানুষ, তাঁর হৃদয় করুণায় পূর্ণ।

৩.৪স্বর্গের দরজাতেও ঠিক এই কথাই লেখা রয়েছে‘ – কোন্কথা? বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী?

উ:-উদ্ধৃত অংশটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা দাম ‘গল্প’ থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে কথকের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের বলা উক্তি অর্থাৎ স্বর্গের দরজায় লেখা রয়েছে যে অঙ্ক পারে না তাঁর স্বর্গে প্রবেশ নিষেধ, সেই কথা বলা হয়েছে।

            গল্পের কথক তাঁর ছেলেবেলার কথা গল্পাকারে লেখার সময় তাঁর স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা মনে পড়ে গেছিল। তিনি অঙ্কে ভীষণ পণ্ডিত ছিলেন এবং কোন ছাত্র যে পুরুষ্ মানুষ হয়েও অঙ্ক পারবে না এটা বিশ্বাস করতে পারতেন না। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন যে কেউ যদি অঙ্ক না পারে তবে তাঁর স্বর্গে প্রবেশের পথ ও বন্ধ। তাই অঙ্ক প্রেমী মাস্টারমশাই এই উক্তি করেছিলেন।

৩.৫আমার বাণিজ্যতরী বাঁধা পড়ে আছেকোন্বাণিজ্যতরী? সেটি বাঁধা পড়ে আছে কেন?

উ:-উদ্ধৃত পঙ্কতিটি অজিত দত্তের লেখা ‘ নোঙর’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে কবির সাহিত্য আর কল্পনার ভাণ্ডারে পুর্ণ সৃষ্টি সম্ভারকে বাণিজ্য তরী বলা হয়েছে।

            আমাদের জীবন জীবিকার জালে আটকে পরেছে,জীবনের নানা দায়িত্ব, কর্তব্যের টান যেন ভাঁটার টানের মতো অমোঘ।কিন্তু স্বপ্ন কল্পনা সাহিত্য ভরা-তরী নিয়ে কবি পাড়ি দিতে চান সাত সমুদ্র পাড়ে। দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে দিতে চান তাঁর সৃষ্টিকে। তাই এখানে বাণিজ্য তৈরীর প্রসঙ্গ এসেছে। এই তরী অসংখ্য বন্ধনে বাঁধা পড়ে আছে যা তরীকে নোঙরের মত অচল করে দিচ্ছে।

নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর লিজের ভাষায় লেখো (কমবেশি 150 শব্দ) :

৪.১নিরবধি সাতদিন বৃষ্টি নিরন্তর।‘ – এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় কলিঙ্গবাসীর জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছিল তা আলোচনা করো।

উ:- চন্ডীমঙ্গলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত অভয়ামঙ্গল থেকে নেয়া কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি কাব্যাংশটিতে কলিঙ্গদেশে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কলিঙ্গদেশে অবিরাম সাতদিনের বৃষ্টিপাতের সঙ্গে চলে ঘোর তান্ডব। সমগ্র দেশ জলে প্লাবিত হয় শস্য ক্ষেতের বিপুল ক্ষতি হয়। বৃষ্টিতে প্রজাদের ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। প্রবল বর্ষণের সঙ্গেই অসংখ্য শিল পরতে থাকে। ভাদ্র মাসের তালের মত বড় শিলার আঘাতে ঘরের চাল ভেঙে যায়। দেবী চণ্ডীর আদেশে পবন পুত্র বীর হনুমান ঝড় উঠিয়ে কলিঙ্গদেশে ধ্বংসলীলা চালান। তার দাপটে মঠ, অট্টালিকা সব ভেঙে খান খান হয়ে যায়। দেবীর আদেশের নদনদী কলিঙ্গদেশের দিকে ধেয়ে আসে। বিরাট বিরাট ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর মাটিতে পড়ে যায়। জলে-স্থলে একাকার হয়ে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সাপ আশ্রয় হারিয়ে ফেলে ভেসে বেড়ায়। কলিঙ্গদেশের স্থলভূমি জলে পূর্ণ হয়। প্রজারা শঙ্কিত হয়ে পরিত্রান পাওয়ার জন্য ঋষি জৈমিনি স্মরণ করতে থাকে। ঘন কালো মেঘের আড়ালে সূর্য মুখ লুকায়। সাতদিনের অবিরাম বৃষ্টি তে শংকিত ও বিপদগ্রস্ত কলিঙ্গদেশের প্রজাদের দুর্দশার চরমে ওঠে।

৪.২সেই আংটি মহারাজের কোনো প্রিয়জনের কথা মনে পড়েছে।‘ – মন্তব্যটির প্রসঙ্গ নির্দেশ করে আংটিটি দেখে মহারাজের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তা বুঝিয়ে দাও।

উ:-কালিদাসের ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নামক রচনায় ধীবর একটি রুই মাছকে টুকরো করে কাটার সময় সেটির পেটের ভিতর থেকে একটি আংটি পায়। মণিখচিত এবং রাজার নাম খোদাই করা এই আংটি দেখে নগর রক্ষায় নিযুক্ত রাজার শ্যালক এবং রক্ষীরা তাকে চোর সাব্যস্ত করেন। ধীবরের ব্যাখ্যা তারা শুনতে চান না। রাজার শ্যালক রাজাকে সমস্ত ঘটনা জানাতে রাজা প্রাসাদে যায়। কিন্তু দেখা যায় ধীবরের সব কথাই সত্য। রাজা আংটিকে স্বচক্ষে দেখেন। দুর্বাসা মুনির কথা মত এই স্মৃতিচিহ্ন দেখেই তার শকুন্তলার কথা মনে পড়ে যায়। আংটিটি দেখে স্বভাবত গম্ভীর প্রকৃতির রাজা মুহূর্তের মধ্যে বিভোর ভাবে চেয়ে থাকেন। রাজার শ্যালক রাজার আসল অনুভুতির কথা না জানলেও রাজার ব্যবহার দেখে তিনি অনুমান করেন যে আংটিটি দেখে রাজার কোনো প্রিয়জনের কথা মনে পড়েছে। শুধু তাই নয় তার মনে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয় তার ফলে তিনি ধীবরকে আংটির মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার হিসাবে দেন। আংটিটি রাজার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার রাজার এই আচরণ থেকে সহজেই অনুমান করা যায়। আংটিটি মূল্য নয় তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি এক্ষেত্রে রাজাকে অনুভূতিপ্রবণ করে তুলেছিল।

৪.৩ইলিয়াসগল্প অনুসরণে ইলিয়াস চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।

উ:- লিও তলস্তয় রচিত ইলিয়াস নাম গল্পটির নাম চরিত্রই কাহিনীর প্রধান চরিত্র। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুলি কোন উন্মোচনের মাধ্যমে এই কাহিনীটি পরিণতি লাভ করেছে।

ইলিয়াস ছিল উপদেশের বসবাসকারী বাসকির জনগোষ্ঠীর ভুক্ত এক ব্যক্তি। তার দুই পুত্র এবং এক কন্যা ছিল। স্ত্রীর নাম ছিল শাম শেমাগি। জীবনের প্রাথমিক পর্যায় আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও পরবর্তীকালে অক্লান্ত পরিশ্রমে এসে বিত্তশালী হয়ে ওঠে। আবার জীবনের শেষ পর্যায়ে ভাগ্যের বিরম্বনায় সমস্ত সম্পত্তি হারিয়ে ভাড়াটে মজুরের জীবন কাটাতে শুরু করে।

সু ব্যবস্থাপক ইলিয়াস ব্যবস্থাপনার গুনে এক সামান্য বাসকির থেকে হয়ে ওঠে বিপুল সম্পত্তির অধিকারী।৩৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম ও কর্মের প্রতি নিষ্ঠা থেকেই ইলিয়াসের ২০০ ঘোড়া ২০০ গরু মোষ ভেড়া এবং বহু ভাড়াটে মুজুরের মালিক এ পরিণত হয়। এমনকি শেষ জীবনে সর্বহারা হয়ে ভাড়াটে হুজুরের মত কাজ করার সময় ও কঠোর পরিশ্রম করে মনিবকে তুষ্ঠ রাখত সে।

প্রতিপত্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইলিয়াসের বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে অতিথিরা আসতে শুরু করেন। সকলকে স্বাগত জানিয়ে চা শরবত মাংস দিয়ে অতীতের যথাযথ আপ্যায়ন করেন ইলিয়াস। তার অতিথিপরায়নতা এর কথা স্মরণ করেই প্রতিবেশী মহাম্মদ শাহ তাকে সেই জীবনে আশ্রয় দিয়েছিল।

ইলিয়াস চারিত্রিক দিক থেকে অত্যন্ত কঠোর ছিল বলেই ছোট পুত্রর ঝগড়াটে স্ত্রী তার আদেশ অমান্য করায় তাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছিল। কিন্তু সেই বিতাড়িত পুত্রকেই একটি বাড়ি এবং গৃহপালিত পশু দান করে সে তার কর্তব্য পরায়ন পরিচয় দিয়েছেন।

জীবনের অন্তিম পর্যায়ে সমস্ত সম্পত্তি ও সঞ্চয় হারিয়ে সর্বহারা হয়েও ইলিয়াস যেভাবে প্রকৃত সত্য উপলব্ধির কথা বলেছে, তা সকলের কাছে দৃষ্টান্ত স্বরূপ ও শিক্ষানিয়।

৪.৪আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে।‘ – বক্তা কে? কেন তাঁর এমনটি মনে হয়েছে?

উ:-  নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছোটগল্পে উক্তিটির প্রবক্তা হলেন কথক সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টার মশাই। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন তার ছাত্রদের কাছে মূর্তিমান বিভীষিকা। অঙ্কে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল প্রশ্নাতীত। যেকোন জটিল অংক একবার মাত্র দেখে সব সমাধান করে ফেলতে পারতেন। ছাত্ররা অংক না পারলে তিনি ভয়ানক রেগে তাদের প্রহার করতে। ছাত্ররা তাকে যমের মত ভয় পেতে এবং তার ও অংকের হাত থেকে রেহাই পাবার দিন গুনতো। তাই এক অংকে দুর্বল ছাত্র সুকুমার পরবর্তীকালে লেখক হয়ে একটি বাল্যস্মৃতি তে মাস্টারমশাই সম্পর্কে  সমালোচনা করে তিনি বলেছেন যে এইভাবে জোর করে ভয় দেখিয়ে মেরে ছাত্র দের কোন বিষয় শেখানো যায় না। সে দিক থেকে বিচার করলে মাস্টারমশাইয়ের শিক্ষা পদ্ধতিতে ভুল ছিল। ঘটনাক্রমে মাস্টারমশাই সুকুমারের এই লেখাটি পড়ে ছিলেন। খুব আশ্চর্যজনক ভাবে অতো রাগি মানুষ তাঁর প্রাক্তন ছাত্রের যাবতীয় সমালোচনাকে তিনি সন্তানের অধিকার বলে গ্রহণ করেছিলেন। এত বছর পরে একজন ছাত্র ও তার কথা মনে করে পত্রিকায় গল্প লিখেছে এটাই সরলমতি মানুষটির কাছে প্রবল আনন্দ ও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছিল। ছাপার অক্ষরে নিজের নামটি দেখেই তার মনে হয়েছিল যে ছাত্র তাকে অমর করে দিয়েছে। ছাত্রটি সত্যিই তাকে আঘাত করতে পারে এটা তার কল্পনাতেও ছিল না। আসলে মাস্টারমশাই মানুষটি ছিলেন ছাত্রদরদি এবং সৃজনশীল। ছাত্রদের জোর করে অঙ্ক শেখানোর পেছনে তার সেই ছাত্র দের মঙ্গল কামনা এবং স্নেহ কাজ করতো।

৪.৫নোঙর গিয়েছে পরে তটের কিনারে।‘ – উদ্ধৃতিটির আলোকে ।নোঙরকবিতায় কবির আক্ষেপ কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে, তা নির্দেশ করো।

উ:- কবি অজিত দত্ত রচিত নোঙ্গর কবিতার হলো জীবনের বিভিন্ন বন্ধন এবং স্থিতিশীলতার প্রতীক।

কবি নৌকা নিয়ে যেতে চান সুদূর সাত সাগরের পাড়ে। বন্ধু নয় বাস্তব জীবন থেকে অনেক দূরে কল্পনা লোকে পাড়ি দিতে চান কবি। প্রাচীন ও মধ্যযুগের সওদাগরদের মত কবি ভাসিয়ে দিতে চান তার সৃষ্টি সম্পর্কে পূর্ণ নৌকা। রোজকার কর্মময়, সহস্র বন্ধন্পূর্ণ জীবন থেকে ছুটি নিয়ে কবির কল্পনা প্রবণ মন অজানা অচেনা দেশে পাড়ি দিতে চায়। কবির ইচ্ছা সাত সমুদ্র পাড়ি দেবার। বাস্তব জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত, কর্মময় জীবনের একঘেয়েমি, সংসারের মায়া বন্দর অতিক্রম করে কবি নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়তে চান কোন সব পেয়েছির দেশের সন্ধানে। কিন্তু চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে থেকে যায় বিস্তর ব্যবধান। কবির ভাবুক মন মানতে চায় না। উদার উন্মুক্ত প্রকৃতির ডাকে মন চাইলেও কবি সাড়া দিতে পারেনা। কর্মময় সাংসারিক জীবনের বন্ধন থেকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে। স্রোতের গতি কবির বন্ধনকে বিদ্রূপ করে কিন্তু কবি নিরুপায় অসহায়। কবি বিরামহীন দাঁড় টেনে নৌকাটিকে উদ্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যেতে চান। দূর দেশে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছে ব্যাকুল কবির মন অসংখ্য বন্ধনময় অবস্থাকে অতিক্রম করে অজানা লোকে পৌঁছতে চাই। তাই বৃথা প্রচেষ্টা জেনেও তিনি অবিরাম দাড় টেনে  চলেছেন।

নির্দেশ অনুযায়ী উত্তর দাও :

(ঠিক বিকল্পটি বেছে নিয়ে লেখো)

৫.১ শ্লোক > শোলোকএক্ষেত্রে ঘটেছে

(ক) আদিস্বরলোপ

(খ) আদিস্বরগম

() মধ্যস্বরাগম

(ঘ) মধ্যব্যঞ্জনাগম।

৫.২অ্যাহলো একটি

(ক) সংবৃত স্বরধ্বনি

(খ) বিবৃত স্বরধ্বনি

() অর্ধবিবৃত স্বরধ্বনি

(ঘ) অর্ধসংবৃত

৫.৩ বিদেশী উপসর্গযোগে উৎপন্ন একটি শব্দ হলো

() আমজনতা

(খ) প্রতিদ্বন্ধ্বী

(গ) অনশন

(ঘ) দুর্জয় ।

৫.৪ মৌলিক সাধিত  ধাতুর একটি পার্থক্য লেখো

উ:-  মৌলিক ও সাধিত ধাতুর মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য হল – মৌলিক শব্দ বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয় যেমন পিতা, তবে সাধিত শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় যেমন পিতা ও মাতা।

৫.৫ ধাত্ববয়ব প্রত্যয়ের একটি উদাহরণ দাও।

উ:-  চল্ (গমন করা) + ই (নীচ) = চালি

৫.৬ অনুসর্গের অন্য দুটি নাম উল্লেখ করো।

উ:-   (১) কর্মপ্রবচনীয়, (২) পরসর্গ

. ভাবসম্প্রসারণ করো :

ধর্মের নামে মহ এসে যারে ধরে

অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে।

উ:-  মানুষের জীবনে কর্মের পাশাপাশি ধর্ম হল একটি বড় গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু যখন ধর্ম যখন প্রকৃত শিক্ষার গন্ডিকে অতিক্রম করে, মানুষের মধ্যে মোহ সৃষ্টি করে তখন সে অন্ধের মত ধর্মের কুসংস্কার মেনে চলে। গোঁড়া ধর্ম অনুসরণকারী  কোনো প্রশ্ন না করেই ধর্মের অনুশাসন মেনে নেয় এবং তাঁর সংস্পর্শে থাকা সকলকে প্রভাবিত করে। তখন তাঁর তথাকথিত ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের জন্য, অপরকে শুধু তাড়না করে, কেউ প্রশ্ন করলে সদুত্তরের বদলে জোটে দুর্বার প্রতিরোধ।ধর্মের অন্ধকার নিজের জীবনের পাশাপাশি অন্যের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।ধর্ম সম্পর্কে মানুষকে অন্ধ বিশ্বাসী না হয়ে সচেতন হতে হবে। জাতি ধর্মের মুহতার জীবনসহ অন্য কারো জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন না করে দেয়। তাই ধর্মকে ধর্ম হিসেবে নেওয়া উচিত তাকে অন্ধকারে নিয়ে যাওয়া কখনই উচিত নয়। আমাদের ব্যবহারিক জীবনকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক করার জন্য ধর্মকে উপস্থাপন করা হয়েছে এটা কখনোই ভুলে গেলে চলবে না।

Click Here To Download  The Pdf

6 COMMENTS

    • 🙂 অন্য কোনো বিষয়ে সমধান চাইলে কমেন্টে জানান।

  1. আপনার এই লেখাটার জন্য আমি খুবই উপকৃত হয়েছি। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.