Home Classes Class 9 চিঠি| নবম শ্রেণী| প্রশ্ন-উত্তর সমাধান| Chithi| Class 9| Question-Answer solved|

চিঠি| নবম শ্রেণী| প্রশ্ন-উত্তর সমাধান| Chithi| Class 9| Question-Answer solved|

0
917

চিঠি

স্বামী বিবেকানন্দ

১ নম্বরের প্রশ্ন-উত্তর

১ ’ একখানা চিঠি কাল পেয়েছিএখানে স্বামী বিবেকানন্দ কার চিঠি পাওয়ার কথা বলেছেন?

উঃ স্বামী বিবেকানন্দ মি ই টি স্টার্ডির কাছ থেকে চিঠি পেয়েছিলেন।

কল্যাণীয়া মিস নোবেলবলে সম্বোধন করে স্বামী বিবেকানন্দ যাকে চিঠি লিখেছেন তার সম্পূর্ণ নাম কী?

উত্তর: কল্যাণীয়া মিস নোবেল বলে যাকে সম্বোধন করা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ নাম মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল৷

. কোথা থেকে স্বামীজি মিস নোবে্লকে পাঠ্য চিঠিটি লিখেছিলেন?

উত্তর: ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে আলমোড়া অঞ্চল থেকে স্বামী বিবেকনন্দ মিস নোবেলকে চিঠি লিখেছিলেন।

সর্বোপরি তোমার ধমনীতে প্রবাহিতরক্ত”- এখানে কোন রক্তের কথা বলা হয়েছে?

উঃ এখানে মিস নোবেলের ধমনীতে কেল্টিক জাতির রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে বলা হয়েছে।

স্টার্ডির একখানি চিঠি কাল পেয়েছি।”—স্টাডি কে?

উত্তর: মি. ই টি স্টার্ডি ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের একজন ইংরেজ ভক্ত, যিনি স্বামীজিকে ইংল্যান্ডে বেদান্ত প্রচারে সহায়তা করেন |

তিনি আমেরিকায় আমার বিশেষ উপকারী বন্ধু ছিলেনএখানে কার কথা বলা হয়েছে?

উঃ স্বামী বিবেকানন্দ এখানে মিসেস বুলের কথা বলেছেন।

“… তা তুমি ধারণা করতে পারবে না।‘—কী ধারণা করতে না পারার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: স্বামীজি মিস নোবেলকে ভারতবর্ষের মানুষের দুঃখ, কুসংস্কার, দাসত্ব প্রভৃতির ব্যাপকতা সম্পর্কে ধারণা করতে না পারার কথা বলেছেন।

৮ ‘কর্মে ঝাঁপ দেবার পুর্বে বিশেষ ভাবে চিন্তা কর’কাকে চিন্তা করার কথা বলা হয়েছে?

উঃ এখানে স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবেলকে বিশেষ করে কর্মের প্রতিকূল দিকগুলির কথা চিন্তা করে দেখতে বলা হয়েছে।

“… এখন আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে যে …”— বিশ্বাসটি কী?

উত্তর: স্বামীজির দৃঢ়বিশ্বাস হয়েছে যে, ভারতের কাজে মিস নোবেলের এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে।

১০. ভারতের নারীসমাজের উন্নতির জন্য কেমন ব্যক্তির প্রয়োজন?

উত্তর: ভারতের নারীসমাজের উন্নতির জন্য একজন প্রকৃত সিংহীর মতো তেজস্বিনী নারীর প্রয়োজন।

১১. “… তুমি ঠিক সেইরূপ নারী, যাকে আজ প্রয়োজন।”— মিস নোবেলের মধ্যে কোন্ গুণাবলি লক্ষ করে স্বামীজি কথা বলেছেন?

উত্তর: মিস নোবেলের শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালোবাসা,দৃঢ়তা ইত্যাদি গুণ লক্ষ করে স্বামীজি এ কথা বলেছেন।

১২. “কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।”— কোন্ কাজে বিঘ্ন আছে?

উত্তর: ভারতবর্ষের, বিশেষত ভারতের নারীসমাজের সার্বিক উন্নয়নের কাজে প্রচুর বিঘ্ন আছে।

১৩, “কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।”—বিঘ্নগুলি কী কী?

উত্তর: ভারতবর্ষের দুঃখ, কুসংস্কার, দাসত্ব, জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা ইত্যাদি দেশের উন্নতির কাজে বিঘ্ন হয়ে দাড়াতে পারে।

১৪সরাসরি তোমাকে লেখা ভালোএখানে তোমাকে বলতে স্বামীজী কাকে বুঝিয়েছেন?

উঃএখানে স্বামীজী মিস নোবেলের কথা বলেছেন।

১৫. মিস নোবেল এদেশে এলে নিজেকে কীভাবে দেখতে পাবেন?

উত্তর: মিস নোবেল এদেশে এলে নিজেকে অসংখ্য অর্ধ-উলঙ্গ নরনারীতে পরিবেষ্টিত অবস্থায় দেখতে পাবেন।

১৬. শ্বেতাঙ্গরা ভারতীয়দের প্রতি কীরূপ মনোভাব পোষণ করে?

উত্তর: শ্বেতাঙ্গরা ভারতীয়দের প্রতি অত্যন্ত ঘৃণার মনোভাব পোষণ করে৷

১৭ মিসেস বুলের বয়স কত?

উঃ মিসেস বুলের বয়স প্রায় পঞ্চাশ বছর।

১৮, ‘চিঠিগদ্যাংশে স্বামীজি ভারতবর্ষের জলবায়ু কেমন বলে বর্ণনা করেছেন?

উত্তর: ভারতবর্ষের জলবায়ু অত্যন্ত গ্রীষ্মপ্রধান। এদেশের শীত ইউরোপের গ্রীষ্মের মতো আর দক্ষিণাঞ্চলে সর্বদাই আগুনের হলকা প্রবাহিত হয়।

১৯, “.. তবু আমার যেটুকু প্রভাব আছে …”—সেই প্রভাব দিয়ে বক্তা কী করবেন বলেছেন?

উত্তর: বক্তার যেটুকু প্রভাব আছে, তা দিয়ে তিনি ভারতীয়দের উন্নতির কাজে মিস নোবেলকে সাহায্য করবেন বলেছেন।

২০. কর্মে ঝাপ দেওয়ার পরে সাফল্যের পাশাপাশি আর কী কী ঘটার সম্ভাবনা থাকতে পারে?

উত্তর: মানবসেবার কর্মে ঝাপ দেওয়ার পর সে কাজে বিফল হওয়ার এবং কর্মে বিরক্তি আসার সম্ভাবনা-থাকতে পারে।

২১, “মরদ কি বাত হাতি কা দাত”—প্রবাদটির অর্থ লেখো।

উত্তর: হাতির দাঁত যেমন একবার বেরোলে আর ভিতরে যায় না তেমনি যথার্থ পুরুষের প্রতিশ্রুতির কখনও নড়চড় হয় না।

২২.এই ধারণা ছেলেবেলা থেকেই তার মাথায় ঢুকেছে …” –কার মাথায় কোন্ ধারণা ঢুকেছে?

উত্তর: মিস মুলারের বদ্ধমূল ধারণা যে তিনি আজন্ম নেত্রী এবং টাকা দিয়ে গোটা পৃথিবীকেই ওলট-পালট করা যায়।

২৩. “তিনি আজন্ম নেত্রী!”কার সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দ কথা বলেছেন?

উত্তর: মিস মুলার সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দ এ কথা বলেছেন যে, তিনি নিজেকে আজন্ম নেত্রী বলে মনে করেন।

২৪. “তার বর্তমান সংকল্প এই যে”—কোন্ সংকল্পের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: এখানে মিসেস মুলারের কলকাতা তার নিজের এবং ইউরোপ থেকে আসা বন্ধুদের জন্য বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

২৫, স্বামী বিবেকানন্দ মিসেস সেভিয়ারকে কোন্ অভিধায় ভূষিত করেছেন?

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ মিসেস সেভিয়ারকে ‘নারীকুলের রত্নবিশেষ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

২৬. ‘…তার সবই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।“—কার সবই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

উত্তর: যে ব্যক্তি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন অর্থাৎ স্বনির্ভর হতে পারেন, তার সবই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

২৭, সেভিয়ার দম্পতি কেমন মানুষ?

উত্তর: সেভিয়ার দম্পতি ভারতবর্ষের মানুষকে ঘৃণা করেন না এবং ভারতীয়দের ওপর কর্তৃত্ব ফলাতে তারা এদেশে আসেননি।

২৮, “আমেরিকার সংবাদে জানলাম যে…” – বক্তা কী জানলেন?

উত্তর: বক্তা স্বামীজি জেনেছেন যে তার দুই বন্ধু মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুল এই শরৎকালেই ভারতভ্রমণে আসছেন।

২৯. ‘সেই পারিফ্যাশনের পোশাকবলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: পারি ফ্যাশনের পোশাক বলতে ফ্রান্সের প্যারিস শহরের ফ্যাশন অনুযায়ী তৈরি পোশাককে বোঝানো হয়েছে। 

৩০, “… আমার পরামর্শ এই যে…”- স্বামীজি মিস নোবেলকে কী পরামর্শ দিয়েছেন?

উত্তর: স্বামীজি পরামর্শ দিয়েছেন, মিস নোবেল যেন মিস ম্যাকলাউড ও মিসেস বুলের সঙ্গে এদেশে আসেন।

৩১. মি. স্টাডির লেখা চিঠিটি কেমন ছিল?

উত্তর: মি. স্টার্ডির লেখা চিঠিটি ছিল বড়ো শুষ্ক, প্রাণহীন এবং হতাশাপূর্ণ।

৩২. মি. স্টাডি হতাশ হয়েছিলেন কেন?

উত্তর: লন্ডনের কাজ পন্ড হওয়ায় মি. স্টাডি হতাশ হয়েছেন বলে তার চিঠিতে সেই হতাশা ফুটে উঠেছে।

৩৩, ভগিনী নিবেদিতার প্রকৃত নাম কী?

উত্তর: ভগিনী নিবেদিতার প্রকৃত নাম মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল।

৩৫, মিস নোবেলের লেখা একটি বইয়ের নাম লেখো।

উত্তর: মিস নোবেলের লেখা একটি বই The Master as I saw him.

৩৬, নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়কে কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?

উত্তর: ভারতীয় আদর্শে স্ত্রীশিক্ষা প্রচলনের উদ্দেশ্যে মিস নোবেল (ভগিনী নিবেদিতা) নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।

৩৭ ধীরামাতা কে?

উঃ স্বামীজীর শিষ্যা মিসেস সারা বুলকে তিনি অনেক চিঠিতে ধীরামাতা নামে সম্বোধন করেছেন।

৩৮. মিসেস সেভিয়ারের শ্রেষ্ঠ কীর্তি কী? [রায়গঞ্জ করােনেশন হাই স্কুল

উত্তর: মিসেস সেভিয়ারের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হল স্বামীজির ইচ্ছায় বেদান্ত প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘মায়াবতী অদ্বৈত আশ্রম প্রতিষ্ঠা করা।

৩৯, মিস মুলারের সম্পূর্ণ নাম কী?

উত্তর: মিস মুলারের সম্পূর্ণ নাম মিস হেনরিয়েটা মুলার।


3
নম্বরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

১ কোন বিশেষ প্রয়োজনে স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবেলকে এই চিঠিটি লিখেছিলেন?

উঃ স্বামী বিবেকানন্দের ইংরেজ ভক্ত মিস্টার স্টার্ডির চিঠি পড়ে  তিনি জানতে পেরেছেন, মিস নোবেল ভারতে এসে ভারতবাসীর সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করতে আগ্রহী। তাই স্বামীজী এই চিঠির মাধ্যমে তাকে সব দিক বিবেচনা করার জন্য উপদেশ দিয়েছেন। তবে তিনি তার মনের আবেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে তার মতো নারীর খুব প্রয়োজন ভারতবর্ষকে উদ্ধার করার জন্য।তার ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন।

২ একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন।”—কে কাকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেছেন? বক্তা তাকে প্রকৃত সিংহীবলেছেন কেন?

 উত্তর: ‘চিঠি’ রচনার উল্লিখিত অংশে স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবেলকে ‘প্রকৃত সিংহী’ বলেছেন।

* বিবেকানন্দ মিস নোবেলকে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবে দেখেছেন। তার মধ্যে রয়েছে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা। নোবেল শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা,অসীম ভালোবাসা, দৃঢ়তাসম্পন্ন এক ব্যক্তিত্বময়ী নারী এবং তার ধমনিতে প্রবাহিত রক্তের জন্য তিনি অনন্যা। তাই বিবেকানন্দ ভেবেছেন, তাকে এদেশের প্রয়োজন। এইসবগুণের কারণেই তিনি সিংহীর সমকক্ষ হয়ে উঠেছেন।


.“কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।”—কোন্ কোন্ বিয়ের কথা বলা হয়েছে লেখ।

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবেলকে যেসব বিঘ্নের কথা বলেছেন, তারমধ্যে প্রথমেই উল্লেখ্য এদেশের মানুষের দুঃখ, কুসংস্কার, দাসত্ব। মানুষের দারিদ্র্য একটা প্রধান বাধা! জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা তাদের আলাদা করে রেখেছে | ভয় অথবা ঘৃণা—যে কারণেই হোক, তারা শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলে| তাই মিস নোবেলকে তারা সন্দেহ করবে। আবার ভারতীয়দের সাহায্য করতে চাইলে শ্বেতাঙ্গরা তাকে সন্দেহের চোখে দেখবে। এ ছাড়া গ্রীষ্মপ্রধান জলবায়ুতে বাস করা তার মতো শীতপ্রধান দেশের মানুষের পক্ষে কষ্টকর। শহরের বাইরে সুখস্বাচ্ছন্দ্যের অভাবও মিস নোবেল বোধ করবেন।

৪ মরদ কী বাত, হাতি কী দাঁত’ – কথাটি কোন অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে?

উঃ এই প্রবাদটি স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবেলকে লেখা তার চিঠিতে তার চরিত্রের কাঠিন্য বোঝাতে ব্যবহার করেছেন।  এই প্রবাদটির অর্থ হল হাতির দাঁত একবার গজালে যেমন আর ভেতরে প্রবেশ করে না, তেমনি পুরুষ বা মরদ একবার কোনো কথা দিলে তা থেকে আর পিছপা হন না। স্বামী বিবেকানন্দ তার চিঠিতে প্রথমেই বলেছেন যে তিনি মিস নোবেলকে সর্বদাই সাহায্য করবেন। কিন্তু ভারতে এসে নানা প্রতিকূলতার সামনে পড়ে যদি তিনি বিরক্ত হন ও এই কাজে অসফল হন তা স্বত্ত্বেও স্বামীজী তার পাশে থাকবেন ও তাকে পূর্ববত স্নেহ করবেন। কারন তিনি কথা দিয়েছেন ও তার কথায় কোনো নড়চড় নেই।

.তোমাকে একটু সাবধান করা দরকার…”~-কাকে, কেন সাবধান করা দরকার? কী বিষয়ে সাবধান করা দরকার?

উত্তর: মিস নোবেল ভারতবর্ষে এসে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় স্বামী বিবেকানন্দ তাকে কিছু বিষয়ে সাবধান করা দরকার বলে মনে করেছেন। এর কারণ হল, ভারতে এসে যে বৃহৎ ও মহৎ কর্মযজ্ঞে মিস নোবেল নামতে চলেছেন, তাতে তাকে অবশ্যই স্বনির্ভর হতে হবে। মিস মুলারের মত কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে মার্গারেটের জনসেবার কাজটি বিঘ্নিত হবে। প্রধানত এ বিষয়েই স্বামীজি মিস নোবেলকে সাবধান করেছিলেন।

.“তার সঙ্গে বনিয়ে চলা অসম্ভব।‘—কার সম্পর্কে কেন মন্তব্য করা হয়েছে?

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবেলকে উদ্দেশ্য করে মিস্ মুলার সম্পর্কে মন্তব্যটি করেছেন। মিস মুলার, বিবেকানন্দের মতে, তার নিজের ভাবে চমৎকার মহিলা| কিন্তু ছেলেবেলা থেকেই নিজেকে নেত্রী ভাবা এবং নিজের ক্ষমতায় অতিরিক্ত বিশ্বাস তাকে বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে | তার মতে টাকার বিনিময়ে যে কোনো অসম্ভব কাজ করা সম্ভব।বিবেকানন্দের মনে হয়েছে যে মিস নোবেল অল্পদিনেই বুঝে নিতে পারবেন যে, মিস মুলারের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয় কারণ মেজাজ রুক্ষ, চিত্ত অস্থির।

.“তার বর্তমান সংকল্প এই যে..”—তার বলতে কাকে বোঝানও হয়েছে? তার বর্তমান সংকল্প কী লেখ।

উত্তর: ‘চিঠি’ রচনার উল্লিখিত অংশে ‘তার’ বলতে মিস মুলারের কথা বলা হয়েছে।

  • মিস মুলার, স্বামী বিবেকানন্দের একজন ভক্ত,যিনি নিজেকে ‘আজন্ম নেত্রী’ বলে মনে করতেন। তিনি সংকল্প করেছিলেন যে, কলকাতায় একটি বাড়ি ভাড়া নেবেন। এই বাড়িটিতে তিনি, মিস নোবেল আর ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে যেসব বন্ধুদের আসার সম্ভাবনা আছে তারা থাকবেন বলে মিস মুলার ভেবেছিলেন।

.যারা এদেশীয়দের ঘৃণা করেন না;”—“যাঁরা কারা? তাদের সম্পর্কে যা জান লেখ।

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ তার ‘চিঠি রচনার উল্লিখিত অংশে ‘যারা’ বলতে সেভিয়ার দম্পতির কথা বলেছেন |

            মিস নোবেলের ভারতে আসার আগে বিবেকানন্দ অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে তাকে এদেশে আগত ইউরোপীয় বা অন্য বিদেশি যারা ভারতের জন্য কাজে উদ্যোগী তাদের সম্পর্কেও ধারণা দিতে চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন মিসেস সেভিয়ার এবং তার স্বামী ক্যাপটেন জে এইচ সেভিয়ার বেদান্ত প্রচারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং স্বামীজির ইচ্ছাতেই তারা ‘মায়াবতী অদ্বৈত আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। ইউরোপীয় হওয়া সত্ত্বেও এদেশের মানুষদের প্রতি তাদের কোনো ঘৃণার ভাব ছিল না| এদেশের মানুষদের ওপরে প্রভুত্ব করার কোনো চেষ্টাও তারা করতেন না।

 নবম শ্রেণির বাংলা প্রবন্ধ  5 নং প্রশ্ন উত্তর

. স্বামী বিবেকানন্দ লিখিত পাঠ্য চিঠির বিষয়বস্তু আলোচনা কর।

উত্তর: লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে মিস নোবেলের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। স্বামীজির বক্তৃতায় তিনি অনুপ্রাণিত হন। পরবর্তীকালে ইংরেজ ভক্ত মি. স্টাডির চিঠি থেকে স্বামীজি জেনেছেন যে, মিস নোবেল ‘ভারতে এসে সবকিছু চাক্ষুষ দেখতে দৃঢ়সংকল্প’ | মিস মুলারের কাছ থেকে তিনি স্বামীজির কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জেনেছেন। কিন্তু ভারতের সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতি ইউরোপ-আমেরিকার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কুসংস্কার, অস্পৃশ্যতা, জাতিভেদ, ইংরেজ প্রভুর দাসত্ব আর প্রবল দারিদ্র্য প্রভৃতি এখানকার মানুষদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। এদেশের আবহাওয়াও উষ্ণপ্রধান। এসব জেনেও যদি মিস নোবেল ভারতের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে চান, তাহলে সেখানে তার সামনে এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে বিশেষ করে ভারতীয় নারীসমাজ তার দ্বারা অসীম উপকৃত হতে পারে। তার মত শিক্ষিতা, একনিষ্ঠ, পবিত্র, প্রেমময়ী, দৃঢ়চেতা এবং সুপ্রাচীন কেলটিক সভ্যতাজাত উন্নত চরিত্রের নারীকে এদেশের প্রয়োজন। এদেশে এসে স্বনির্ভর হয়ে তাকে কাজ করতে হবে। তার পাশে স্বামীজি আমরণ থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এইসব, তথ্য ও মতামত জানিয়ে মিস নোবেলকে স্বামীজি সরাসরি চিঠি লিখেছেন।

এ ছাড়া কয়েকজন ইউরোপীয় ব্যক্তির চরিত্র বিশ্লেষণ ও কর্মপদ্ধতি এই চিঠিতে আলোচনা করেছেন লেখক| তাদের কাছ থেকে তিনি কীভাবে সাহায্য পেতে পারেন ও কীভাবে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে হবে তা নিয়েও তিনি সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন মিস নোবেল কাজে অপারগ হলেও তিনি তাকে সমর্থন করবেন। চিঠিটিতে একজন শিষ্যার প্রতি গুরুর অকৃত্রিম স্নেহ প্রকাশিত হয়েছে।

২ চিঠি রচনা অবলম্বনে স্বামী বিবেকানন্দের স্বদেশভাবনার পরিচয় দেয়।

উঃস্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন একজন প্রকৃত ভারতপ্রেমী। তিনি আমরণ তার কাজের মাধ্যমে দেশের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনের জন্য চেষ্টা করেছেন। আলোচ্য চিঠিটি স্বামীজি তার শিষ্যা মিস নোবেলকে লিখেছেন ও তার বিষয়বস্তুও সম্পূর্ণ আলাদা। চিঠির মূল উদ্দেশ্য ভিন্ন হলেও চিঠির মাধ্যমে ভারতবাসীদের প্রতি তার মনোভাব স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে।

 স্বামীজি বিশেষ করে ভারতের পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে নিয়ে তিনি বিশেষভাবে চিন্তিত। তার মতে ভারতের নারী সমাজের উন্নতির জন্য একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন।শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা,অসীম ভালোবাসা, দৃঢ়তা দিয়ে নারী সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি নোবেলকে আহ্বান জানিয়েছেন। আবার ভারতের মানুষের দুঃখ, কুসংস্কার, দাসত্ব, মানুষের দারিদ্র্য জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। এই ভাবে ভালো খারাপ মিশিয়ে তিনি তার স্বদেশকে সম্পূর্ণ্রুপে গ্রহণ করেছেন। নোবেলের কাছে তিনি ভারতের গ্লানি প্রকাশ করে তার প্রতিকারের ব্যাপারে যে কতটা আগ্রহী তা ব্যক্ত করেছেন।এভাবে দুঃস্থ দেশের প্রতি তার গভীর মমতা প্রকাশ পেয়েছে।

Click Here To Download The Pdf

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.