Home Uncategorized রাধারাণী|নবম শ্রেণী| প্রশ্ন-উত্তর সমাধান| Radharani| Class 9| Question-Answer solved

রাধারাণী|নবম শ্রেণী| প্রশ্ন-উত্তর সমাধান| Radharani| Class 9| Question-Answer solved

1
534

রাধারাণী

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়

. রাধারাণী কোথায় গিয়েছিল?

উত্তর: রাধারাণী মাহেশে রথের মেলায় গিয়েছিল।

বিধবা হাইকোর্টে  হারিল |” এখানে কোন মামলার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: জ্ঞাতির সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে রাধারাণীর মায়ের যে মামলা হয়েছিল এখানে সেই মামলায় কথাই বলা হয়েছে | 

.হাইকোর্টে মামলায় হেরে যাওয়ার ফলে রাধারাণীদের কী অবস্থা হয়েছিল?

উত্তর: হাইকোর্টে মামলায় হেরে যাওয়ার ফলে ডিক্রি জারি করে রাধারাণীদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল।

. হাইকোর্টে হেরে যাওয়ার পরে রাধারাণীদের দিন কীভাবে কাটত?

উত্তর: হাইকোর্টে হেরে গিয়ে বাড়ি থেকে উৎখাত হয়ে রাধারাণীর মা কুটিরে থাকেন এবং দৈহিক পরিশ্রমে কোনোরকমে তাদের দিন কাটে।

. “সুতরাং আর আহার চলে না”-এই না চলার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?

উত্তর: রাধারাণীর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে, তার আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে খাবার জোগাড়ের অবস্থা আর থাকে না।

. ‘রাধারাণীগল্পে কোন্ মাসের উল্লেখ আছে?

উত্তর: রাধারাণী’ গল্পে শ্রাবণ মাসের উল্লেখ আছে।

, রাধারাণী মায়ের পথ্যের জন্য কী করেছিল?

উত্তর: মায়ের পথ্য সংগ্রহের জন্য রাধারাণী বনফুল তুলে মালা গেঁথে রথের মেলায় বিক্রি করতে গিয়েছিল।

, রাধারাণী একা রথের মেলায় গিয়েছিল কেন?

উত্তর: রাধারাণী বনফুলের মালা বিক্রি করে মার পথ্য সংগ্রহ করবে বলে মাহেশের রথের মেলায় গিয়েছিল।

, “রথের হাট শীঘ্র ভাঙিয়া গেল|–কেন?

উত্তর:রথের হাট প্রবল বৃষ্টির কারণে শীঘ্রই ভেঙে গিয়েছিল।

১০, “মালা কেহ কিনিল না” —মালা না কেনার কারণ কী ছিল?

উত্তর: রথের দড়ির টান অর্ধেক হতে না হতেই প্রবল বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে গেলে মালা কেনার লোক থাকে না।

১১. “এক্ষণে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিল।‘—কোন সময়ের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: অন্ধকারে বাড়ি ফেরার সময় কোনো একজন রাধারাণীর ঘাড়ের উপরে পড়ায় রাধারাণী উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে ওঠে।।

১২, “রাধারাণী রোদন বন্ধ করিয়া বলিল…”-রাধারাণী কী বলেছিল?

উত্তর: রাধারাণী কান্না বন্ধ করে বলেছিল সে দুঃখী লোকের মেয়ে এবং তার মা ছাড়া কেউই নেই।

১৩, “রাধারাণী বড়ো বালিকা।‘–কীভাবে এই ধারণা হয়েছিল?

উত্তর: পথিক প্রথমে রাধারাণীর গলার আওয়াজে এবং পরে তার হাতের ছোঁয়ায় বুঝতে পারেন রাধারাণী খুবই ছোটো একটি মেয়ে।

১৪, রাধারাণীকে বয়স জিজ্ঞাসা করলে সে কত বলেছিল?

উত্তর: রাধারাণী প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছিল যে, তার বয়স দশ-এগারো বছর।

১৫, “এক্ষণেও বালিকার হৃদয়মধ্যে লুক্কায়িত আছে।”—কী লুক্কায়িত আছে?

উত্তর:: যে বনফুলের মালা রথের মেলায় বিক্রি করতে গিয়েছিল তা-ই রাধারাণীর বুকের মধ্যে লুকানো ছিল।

১৬. “আমি একছড়া মালা খুঁজিতেছিলাম”—পথিক চরিত্রটি মালার সন্ধান করছিল কেন?

উত্তর: পথিক চরিত্রটি তার গৃহদেবতাকে পরানোর জন্য মালার সন্ধান করছিল।

১৭ যে বড়ো বড়ো ঠেকচে |’—কীসের সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: রাধারাণীকে মালার দাম হিসেবে পথিক চার পয়সা দিলে তা অন্ধকারে তার কাছে অনেক বড়ো মনে হয়।

১৮তুমি ভুলে টাকা দাও নাই তো?”—কেন বক্তা কথা বলেছে?

উত্তর: মালার দাম হিসেবে দেওয়া পয়সার আকৃতি এবং অন্ধকারেও তার ঔজ্জ্বল্য দেখে বকা রাধারাণী প্রশ্নোপ্ত মন্তব্যটি করে।

১৯ ‘…তখন ফিরাইয়া দিব।”—কখন ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: ঘরের আলোয় ভালোভাবে দেখে পথিকের দেওয়া মুদ্রাটি টাকা হলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

২০তারপর প্রদীপ জ্বালিয়ো।‘—তারপরবলতে বক্তা কীসের পর প্রদীপ জ্বালাতে বলেছেন?

উত্তর: রাধারাণী’ রচনাংশ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতিটিতে বক্তা ‘তারপর’ বলতে ঘরে গিয়ে রাধারাণীর ভেজা কাপড় ছাড়ার পর বুঝিয়েছেন।

২১আমি ভিজা কাপড়ে সর্বদা থাকি।”—কেন বক্তা সর্বদা ভিজে কাপড়ে থাকে?

উত্তর: বক্তা রাধারাণীর মাত্র দুটি কাপড় থাকায় সে সবসময় ভিজে কাপড়ে থাকে |

২২আমার ব্যামো হয় না। কোন প্রসঙ্গে কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: মাত্র দুটি কাপড় থাকায় রাধারাণীকে সবসময় ভিজে কাপড়ে থাকতে হয়, এই প্রসঙ্গেই এ কথাটি বলা হয়েছে |

২৩আগুন জ্বলিতে কাজে কাজেই একটু বিলম্ব হইল।”—এই বিলম্ব হওয়ার কারণ কী?

উত্তর: ঘরে তেল না থাকায় চালের খড় পেড়ে চকমকি ঠুকে আগুন জ্বালাতে গিয়ে রাধারাণীর বিলম্ব হয়।

২৪আলো জ্বলিয়া রাধারাণী দেখিল।”—কী দেখল?

উত্তর: আলো জ্বেলে রাধারাণী দেখেছিল পথিক যা পয়সা বলে দিয়েছিল, তা আসলে টাকা।

২৫. তখন রাধারাণী বাহিরে আসিয়া তল্লাশ করিয়া দেখিল যে…” রাধারাণী কী দেখেছিল?

উত্তর: রাধারাণী দেখেছিল যে তাকে যে ব্যক্তি টাকা দিয়েছিলেন তিনি আর দরজার বাইরে নেই, চলে গেছেন।

২৬. “বড়ো শোরগোল উপস্থিত করিল।”—এই শোরগোলের কারণ কী?

উত্তর: রাধারাণীদের কুটিরের দরজার ঝাপ ঠেলে ‘কাপুড়ে মিনসে’ পদ্মলোচনের আসার ফলে এই শোরগোল হয়েছিল।

২৭. “…তিনিই বুঝি আবার ফিরিয়া আসিয়াছেন।’- কার কথা এখানে বলা হয়েছে?

উত্তর: বনফুলের মালার দাম হিসেবে রাধারাণীকে পয়সার বদলে টাকা দিয়েছিলেন যিনি সেই পথিকের কথা এখানে বলা হয়েছে।

২৮. পদ্মলোচনকে পথিক কী বলেছিল?

উত্তর: পদ্মলোচনকে পথিক দুটি কাপড়ের দাম নগদে মিটিয়ে দিয়ে সেগুলি তিনি রাধারাণীকে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন।

২৯. রাধারাণীর পরিবারের সঙ্গে পদ্মলোচনের পরিচয় কবে থেকে?

উত্তর: রাধারাণীর পরিবারের সঙ্গে পদ্মলোচনের পরিচয় রাধারাণীর বাবার আমল থেকে |

৩০. … প্রসন্ন মনে দোকানে ফিরিয়া গেলেন।”—এই প্রসন্নতার কারণ কী?

উত্তর: পদ্মলোচন রুক্মিণীকুমারের কাছ থেকে চার টাকার কাপড়ের দাম আট টাকা সাড়ে চোদ্দো মানা আদায় করে প্রসন্ন হয়েছিল।

৩১. রাধারাণী প্রাপ্ত টাকা ভাঙিয়ে কী করেছিল?

উত্তর: রাধারাণী বাজারে গিয়ে প্রাপ্ত টাকা ভাঙিয়ে মায়ের পথ্য তৈরির জিনিসপত্র ও প্রদীপের তেল কিনেছিল।

৩২) লোকটি মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে রাধারাণীৱ কাছ থেকে কী কথা জেনেছিল?

উত্তর : লোকটি জেনে নিল যে, রাধারাণী মায়ের পথ্যের জন্য বনফুলের মালা গেঁথে রথের হাটে বেচতে গিয়েছিল, কিন্তু মালা বেচা হয়নি।

নম্বরের প্রশ্নের উত্তর

কিন্তু আর আহারের সংস্থান রহিল না।” – এই সংস্থান না থাকার কারণ আলোচনা কর।

অথবা, রাধারাণীর মার দৈন্যদশার কারণ কী?

উত্তর: একজন জ্ঞাতির সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে মামলায় রাধারাণীর বিধবা মা হাইকোর্টে হেরে যায়। জ্ঞাতি ডিক্রি জারি করে তাদের পিতৃপুরুষের ভিটে থেকে উচ্ছেদ করে দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তির দখল নেয়। খরচ এবং পাওনা শোধ করতে বাকি সব অর্থ চলে যায়। গয়না ইত্যাদি বিক্রি করে রাধারাণীর মা প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করলেও সেখানেও তারা হেরে যায়।এভাবেই খাবার জোগাড়ের অবস্থা তাদের আর থাকে না।

)“রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না!’রাধারাণীর বিবাহ দিতে না পারার কারণ আলোচনা কর।

উত্তর: সম্পত্তির অধিকার নিয়ে এক জ্ঞাতির সঙ্গে মামলায় হেরে যাওয়ায় রাধারাণীর বিধবা মার প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হাতছাড়া হয়। নগদ টাকা যেটুকু ছিল তা পাওনা শোধ ইত্যাদিতে ব্যয় হয়ে যায়। গয়নাগাটি বিক্রি করে রাধারাণীর মা প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করায় তারা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে যায়। এই দারিদ্র্যের কারণেই দৈহিক পরিশ্রম করে কোনো রকমে বেঁচে থাকা রাধারাণীর মার পক্ষে রাধারাণীর বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

)“অগত্যা রাধারাণী কাদিতে কাঁদিতে ফিরিল।”—রাধারাণীর কেঁদে কেঁদে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: রাধারাণী বুনোফুলের মালা গেঁথে রথের মেলায় গিয়েছিল, তা বিক্রি করে মার পথ্য সংগ্রহ করতে। কিন্তু রথ অর্ধেক টানা হওয়ার পরেই প্রবল বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যায়। রাধারাণী তবুও মেলায় ভিড় আরও জমবে এবং তার মালাও বিক্রি হবে এই আশায় বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে। কিন্তু রাত হওয়ার পরেও বৃষ্টি না থামায় তার আশা ভেঙে যায়। মালা বিক্রি না হওয়ায় রাধারাণী অন্ধকারে কাদতে কাদতে বাড়ির পথ ধরল।

)“কণ্ঠস্বর শুনিয়া রাধারাণীর রোদন বন্ধ হইল।কার কণ্ঠস্বর শুনে কেন রাধারাণীর রোদন বন্ধ হয়েছিল?

উত্তর: রাধারাণী’ গল্পাংশের উল্লিখিত অংশে পথিকের গলার আওয়াজ শুনে রাধারাণীর কান্না বন্ধ হয়েছিল।

* রথের মেলায় বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যাওয়ার কারণে মালা বিক্রি না হওয়ায় রাধারাণী যখন কাঁদছে, অন্ধকারে কেউ তার ঘাড়ের উপরে এসে পড়ে। ভয়ে রাধারাণী উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে ওঠে। তখন সেই অপরিচিত ব্যক্তি প্রশ্ন তার পরিচয় জানতে চান, চেনা লোক না হলেও গলার আওয়াজেরাধারাণী দয়ালু মানুষের উপস্থিতিই যেন বুঝতে পেরেছিল। তাই তার কান্না বন্ধ হয়েছিল।

) “তুমি দাঁড়াও, আমি আলো জ্বালি”—এই আলো জ্বালার কারণ আলোচনা করো

উত্তর: প্রবল বৃষ্টিতে রথের মেলা ভেঙে যাওয়ায় রাধারাণীর মালা বিক্রি হয়নি। এর ফলে রাধারাণী কাঁদতে কাঁদতে অন্ধকার পথে ফেরার সময় এক পথিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে রাধারাণীর মালাটি চার পয়সা দিয়ে কিনে নেয়। কিন্তু রাধারাণীর সন্দেহ হয় যে তাকে দেওয়া মুদ্রাগুলি বড়ো এবং চকচক করছে| পথিক ‘ডবল পয়সা’, ‘নূতন কলের পয়সা’ ইত্যাদি বললেও নির্লোভ রাধারাণী বাড়িতে গিয়ে তা আলোয় পরীক্ষা করে নেওয়ার কথা জানায়।

)“মা! এখন কী হবে?— কথা বলার কারণ কী?

উত্তর:রাধারাণী’ গল্পাংশে মালার দাম হিসেবে পথিক রাধারাণীকে চার পয়সা দেওয়ার পরেও রাধারাণীর সন্দেহ হয় পথিক পয়সার বদলে টাকা দিয়েছে।পথিক অস্বীকার করলেও রাধারাণী বাড়িতে গিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে সেটি দেখার কথা বলে এবং পথিককে ততক্ষণ অপেক্ষা করতে বলে। রাধারাণী চকমকি ঠুকে আগুন জ্বেলে দেখে তার অনুমান ঠিক। পথিক তাকে টাকাই দিয়েছে| কিন্তু বাইরে এসে দেখে যে পথিক চলে গিয়েছে | এই অবস্থাতে রাধারাণী অসহায় হয়ে মায়ের কাছে জানতে চায় যে সেই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত।

)“নোটখানি তাহারা ভাঙাইল না৷”—নোটখানি কারা কেন ভাঙাল না?

উত্তর: রাধারাণী’ গল্পাংশে রাধারাণী আর তার মা পথিকের ফেলে যাওয়া নোটটি ভাঙাল না|

রাধারাণী এবং তার মা পথিক রুক্মিণীকুমার রায়ের ফেলে যাওয়া নোটটি ভাঙায়নি তার কারণ এর আগে মালার দাম হিসেবে তিনি যে টাকা দিয়েছিলেন তাতেই তাদের প্রয়োজন মিটে গিয়েছিল। নোটটি তাদের প্রয়োজন ছিল না। তাই তারা নোটটি তুলে রাখল। কেননা তারা দরিদ্র হলেও লোভী ছিল না।

নম্বরের প্রশ্নঃ

 

) সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রাধারাণীকাহিনি অবলম্বনে রুক্মিণীকুমার রায় বাধাৱানীৱ মায়ের চরিত্র আলোচনা কর।

উত্তর : সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘ রাধারাণী’ কাহিনিতে রাধারাণী বাদে আরো দুটি চরিত্র উল্লেখযোগ্য স্থান করে নিয়ে অবস্থান করছে। প্রথমটি রুক্মিণীকুমার রায়, দ্বিতীয়টি রাধারাণীর বিধবা মা।

রুক্কিাণীকুমার রায়  এই অপরিচিত মানুষটির সাহায্য-সহযোগিতা, মমত্ব, দয়া, দানশীলতা ইত্যাদি গুণ কাহিনিতে প্রকাশিত হয়েছে।অন্ধকারে পথ হাঁটতে গিয়ে অনিচ্ছায় ও ভুলক্রমে বালিকা রাধারাণীর ঘাড়ের ওপর পড়েন। রাধারাণীর কান্না শুনে তাঁর চমক ভাঙে। তিনি যখন রাধারানীর অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন তখন একটি অসহায় বালিকাকে তার বাড়িতে পৌঁছিয়ে দেন, শুধু তাই নয়, কাদা রাস্তায় বালিকা যাতে পা পিছলে আছাড় না খায় সেজন্য বালিকাকে তাঁর হাত ধরতে বলেছেন। বালিকার অবিক্রিত মালা চার পয়সার বিনিময়ে কিনে নিলেও দিয়েছেন টাকা। তিনি দাতা, দানশীলতা তাঁর চারিত্রিক গুণ। এই গুণের আরও পরিচয় হলো রাধারাণীর জন্য শাড়ি কিনে পাঠানো, নিজের নাম স্বাক্ষরিত নোট ফেলে যাওয়া।

রাধারাণীর বিধবা মা তেজস্বিনী ও সংগ্রামী মহিলা। জ্ঞাতি লোকটির সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়ে মোকদ্দমা লড়েছেন। হেরে গেছেন, সর্বস্ব গিয়ে নিঃস্ব হয়ে কুটিরবাসী হয়েছেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। নিজের গহনা বিক্রি করে প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করেছেন। আহার সংগ্রহের জন্য তাঁকে কঠোর শ্রম করতে হচ্ছে। তাতেও তিনি মনের দিক থেকে ভেঙে পড়েননি। যখন তিনি বুঝতে পেরেছেন যে একজন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের দান করেছেন তখন মেয়েকে সৎ পরামর্শই দিয়েছেন, সে দাতা, আমাদের দুঃখ শুনিয়া দান করিয়াছে—আমরাও ভিখারি হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া খরচ করি।তিনি নির্লোভ ছিলেন, তাই নোট কুড়িয়ে পেয়ে তিনি তা যত্ন করে রেখে দিয়েছেন, বিলাসিতা করেন নি।

) ‘তাহাৱা দরিদ্র, কিন্তু লোভী নহেউৎস প্রসঙ্গ নির্দেশ করে উদ্ধৃতিৱ তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও?

উত্তর : উৎস ও প্রসঙ্গ : আলোচ্য উদ্ধৃতিটি সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘রাধারাণী’ কাহিনি থেকে গৃহীত। মাকে পথ্য দেওয়ার জন্য স্থানটা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে রাধারাণী ঝাট দিতে গিয়ে একখানি কাগজ পায়। তার মা দেখেন যে সেটি কাগজ নয় একখানা নোট। নোটের ওপর রাধারাণীর নাম লেখা । দাতা রাধারাণীকে নোটখানা দিয়েছেন। নোটের ওপর দাতারও নাম লেখা। দাতার খোঁজ না পেয়ে তারা নোটটি না ভাঙিয়ে তুলে রাখে। এই প্রসঙ্গে লেখকের উধৃত মন্তব্য।

তাৎপর্য : রাধারাণীরা এখন প্রকৃতই গরিব। তাদের এক জ্ঞাতি হাইকোর্টের ডিক্রির জোরে রাধারাণীদের সর্বস্ব দখল করেছে। সব হারিয়ে তার বিধবা মা তাকে নিয়ে কুটিরবাসিনী। ঘরে প্রদীপ জ্বালার তেলটুকু নেই। দেশলাই নেই। চকমকি ঠুকে আলো জ্বালতে হয়। রাধারাণীর পরবার একটিমাত্র শাড়ি আছে। সেটি ভিজিয়ে ফেললে সেই ভিজে কাপড় শরীরেই শুকায়। এমন গরিব হয়েও টাকার নোট পেয়ে তা ভাঙিয়ে আত্মসাৎ করে না। নোটের স্বাক্ষরকারীর খোঁজ না পেয়ে তা ভাঙানো অনুচিত বলে তাদের মনে হয়েছে। রুক্মিনীকুমারের দেওয়া টাকাতে তাদের আহারের প্রয়োজন মিটে যাওয়ায় তারা আর নোট ভেঙ্গে বিলাসিতা করার কথা ভাবতেও পারে না।তাই তাদের নির্লোভী বলা হয়েছে।

) সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা রাধারাণীকাহিনি অবলম্বনে রাধারাণী চরিত্র আলোচনা কর।

উত্তরঃসাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘রাধারাণী’ কাহিনির প্রধান চরিত্র রাধারাণী। রাধারাণী এগারো বছর বয়সের বালিকা। তার বিধবা মায়ের একমাত্র কন্যাসন্তান। সে অত্যন্ত বাস্তববাদী। সে নিজমুখে রুক্মিণীকুমারকে পরিচয় দিয়েছে ‘আমি দুঃখীলোকের মেয়ে বলে। প্রকৃতপক্ষে সে ধনী ও সুখী পরিবারের মেয়ে ছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে তারা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব কুটিরবাসী হয়েছে। তাই বুদ্ধিমতী বালিকা রাধারাণী বনফুল তুলে মালা গেঁথে একা রথের মেলায় গেছে মালা বিক্রি করে সেই পয়সায় মায়ের পথ্যের ব্যবস্থা করতে। বালিকার এই উপস্থিত বুদ্ধি, সাহস ও মায়ের প্রতি মমত্বের তুলনা হয় না।

রাধারাণী অপরিচিত মানুষটির কাছে কোনো কথা গোপন করেনি। তার সত্যবাদিতা ও সারল্য প্রশংসনীয়। সে সৎ মনোভাবের বালিকা। ফুলের মালার ন্যায্য মূল্যই সে চায়। সেজন্য পয়সা না টাকা তা নিয়ে তার সংশয় মেটানোর জন্য লোকটিকে নানাভাবে প্রশ্ন করেছে। এমনকি আলো জ্বেলে টাকা দেখার পরে টাকা ফেরত দিতে গিয়ে সে যখন দেখে লোকটি চলে গেছে তখন টাকা ফেরত দিতে না পারায় সে সংশয় অনুভব করে। মালা বিক্রি করে সেই মূল্যে বাবদ দানের টাকা খরচ করেছে, কিন্তু ঘরে পড়ে থাকা নোটে মালিকের নাম লেখা থাকা স্বত্তেও তা সে খরচ করতে পারে না। সে আসলে লোভী নয়।তার মায়ের এসব শিক্ষা ও পরামর্শ রাধারাণীর জীবনে পরম সম্পদ।


)“আমরাও ভিখারি হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া খরচ করি।”—বক্তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট গল্পাংশ অবলম্বনে আলোচনা কর।

উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘ রাধারাণী’ গল্পাংশে রাধারাণীর মা এই উক্তিটি করেছেন | রাধারাণীর পরিবার একসময় খুবই সম্পন্ন ছিল। কিন্তু রাধারাণীর বাবার মৃত্যুর পরে এক জ্ঞাতির সঙ্গে সম্পত্তি সম্পর্কিত বিবাদে জড়িয়ে গিয়ে, হাইকোর্টে হেরে মামলার খরচ ও ওয়াশিলাত অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ দিতে, প্রিভি কাউন্সিলে আবেদন করতে রাধারাণীর মা নিঃস্ব হয়ে যান। রাধারাণীর মা একটা কুটিরে আশ্রয় নিয়ে শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে দিন কাটাতে থাকেন। মা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়। উপোস করে দিন কাটানো শুরু হয়। অসুস্থ মায়ের পথ্য সংগ্রহের উদ্দেশে রাধারাণী বনফুলের মালা গেঁথে রথের মেলায় বিক্রি করতে গেলেও বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যাওয়ায় তার মালা বিক্রি হয় না। ফেরার পথে এক পথিক সব শুনে চার পয়সায় মালাটি কিনে নেয়। কিন্তু বাড়ি ফিরে পথিককে বাইরে দাড়াতে বলে সে আগুন জ্বালিয়ে যখন দেখে তাকে পয়সার বদলে টাকা দেওয়া হয়েছে, তখন বাইরে বেরিয়ে সে পথিককে খুঁজে পায় না | বিভ্রান্ত হয়ে রাধারাণী তার মায়ের কাছে পরামর্শ চাইলে মা বলেন যে, দাতা অর্থ দিয়েছেন এবং দরিদ্র বলেই তাদের তা গ্রহণ করে খরচ করা ছাড়া অন্য উপায় নেই |

()’রাধারাণীরচনাংশ অবলম্বনে সেকালের সমাজজীবনের পরিচয় দাও। |

উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘ রাধারাণী’ রচনাংশটি কোনো সামাজিক সমস্যা ও সংকটকে অবলম্বন করে রচিত না হলেও কাহিনির প্রেক্ষাপটে সমাজ উঁকি দিয়েছে বারেবারেই রাধারাণীর মার নিঃস্ব হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ কিংবা মামলা-মোকদ্দমা তখন যথেষ্টই ছিল|রথের মেলা উপলক্ষ্যে লোকের ভিড় গ্রামবাংলারই জীবন্ত ছবি | দারিদ্র্য কত কষ্টকর হতে পারে তার পরিচয় পাওয়া যায় যখন রাধারাণীদের খাবার জোটে না, কিংবা রাধারাণী জানায় তার দুটি ভিন্ন কাপড় নেই—ভিজে কাপড়ে থাকতেই সে অভ্যস্ত। কাপড়ের ব্যবসায়ী পদ্মলোচন সাহা অসৎ ব্যাবসাবৃত্তির প্রতীক হয়ে থাকে, যে চার টাকার কাপড় আট টাকা সাড়ে চোদ্দো আনায় বিক্রি করে। মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার যে চল ছিল তা বোঝা যায় যখন রাধারাণী সম্পর্কে লেখক বলেন—“রাধারাণী বড়োঘরের মেয়ে, একটু অক্ষরপরিচয় ছিল।”রাধারাণী এবং তার মায়ের রুক্মিণীকুমার রায়ের রেখে যাওয়া নোট তুলে রাখার মধ্য দিয়ে বোঝা যায় পদ্মলোচনের মতো অসৎ চরিত্রের বিপরীতে সৎ এবং আদর্শবাদী মানুষও তখন সমাজে যথেষ্ট ছিল।

Click Here To Download  The Pdf

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.