Home Classes Class 8 ছন্নছাড়া| প্রশ্ন-উত্তরের সমাধান | Chonnochara | Class 8| Solved answer

ছন্নছাড়া| প্রশ্ন-উত্তরের সমাধান | Chonnochara | Class 8| Solved answer

0
2315

ছন্নছাড়া 

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

সমস্ত প্রশ্ন-উত্তরের সমাধান

https://youtu.be/dpoiFRhEQCA

বিষয়সংক্ষেপ

কবিতার কথক একটি জরুরি কাজে ট্যাক্সি করে যাচ্ছিলেন। সামনে গলির মোড়ে একটি কঙ্কালসার গাছকে দেখে তিনি ভেবেছিলেন, এটি গাছের প্রেতচ্ছায়া। কারণ, তাতে কোনো পাতা বা সবুজের চিহ্নমাত্র ছিল না। আসলে গাছটি ছিল মৃতপ্রায় সমাজের প্রতীক, যে সমাজের মানবিকতা মরে গেছে। রাস্তার মোড়ে কতকগুলি ছন্নছাড়া বেকার যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ড্রাইভার সেদিক দিয়ে যেতে চাইলেন না। কারণ, তারা গাড়ি থামিয়ে লিফট চাইবে। তারা নৈরাজ্যের বাসিন্দা।এই অস্থির ও বেকারত্বের যুগে  তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের কোন উপকরণ নেই। কিন্তু শর্টকাট হবে বলে কথক সেদিক দিয়ে ড্রাইভারকে জোর করে নিয়ে গেলেন এবং  সহানুভুতির বশবর্তী হয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তাদের ট্যাক্সি লাগবে কিনা। সঙ্গে সঙ্গে তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল এবং গাড়িতে উঠে সামনের ভিড় দেখিয়ে কথককে  বলল,সেই দিকে গাড়ি নিয়ে রওনা হতে । ভিড়টা কোনো জলসা বা চিত্র তারকার অভ্যর্থনার জন্য নয়। একটি সহায়-সম্বলহীন ভিখিরি গাড়ি চাপা পড়েছে। তারা তাকে পাঁজাকোলা করে গাড়িতে তুলতে তুলতে খুশির সঙ্গে চেঁচিয়ে বলল—“প্রাণ আছে, প্রাণ আছে”। এই চিৎকার যেন ঘোষনা ক্ষয়িষ্ণু সমাজের এখনও বেঁচে ওঠার আশা আছে। সব হারানো পরোপকারী ছন্নছাড়া ছেলে গুলিই মানবিকতার গান গেয়ে সমাজকে বাঁচিয়ে তুলছে । কথক  সেই ভিখিরির রক্তের দাগ থেকে নিজের শালীনতা ও ভদ্রতাকে রক্ষা করার জন্য গাড়ি থেকে নেমে গেলেন। ফিরে আসার সময় লক্ষ করলেন, মৃতপ্রায় গাছটিতে আবার হাজার হাজার সোনালি পাতা গজিয়েছে। শীতল ছায়া বিস্তার করছে গাছটি। কবি অবিশ্বাস্য চোখে দেখলেন সেই দৃশ্য।

হাতে কলমে

. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখ।

উঃ  অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের লেখা দুটি বইয়ের নাম হল—‘বেদে’ এবং ‘সারেঙ।

. তিনি কোন্ পত্রিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন ? 

উঃ তিনি কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।

নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর একটি বাক্যে লেখ :

. কবি প্রথমে গাছটিকে কেমন অবস্থায় দেখেছিলেন ? 

উঃ কবি প্রথমে গাছটিকে শূন্যের দিকে এলোমেলো ভাবে কতকগুলি শুকনো কাঠির কঙ্কাল ওঠা, লতা পাতাহীন , রুক্ষ, রুষ্ট, ছালবাকলশুণ্য সবুজের চিহ্নবিহীন  গাছের প্রেতচ্ছায়া রূপে দেখেছিলেন।

.ড্রাইভার বললে, ওদিকে যাব না। ওদিকে না যেতে চাওয়ার কারণ কী ? 

উঃ ওদিক দিয়ে গেলেই রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেওয়া কতকগুলি বেকার ছন্নছাড়া ছেলে গাড়ি থামিয়ে লিফট চাইবে। তাই ডাইভার ওদিক দিয়ে যেতে চায়নি।

. তাই এখন পথে এসে দাঁড়িয়েছে সড়কের মাঝখানে।সড়কের মাঝখানে, পথে এসে দাঁড়ানোর কারণ কী ?

উঃ বেকার যুবকদের আড্ডা দেওয়ার জন্য কলেজ, ক্রিকেটের ময়দান, বাস বা ট্রেন এমনকি অফিস-আদালতেও কোনো স্থান নেই,এমনকি  মধ্যবিত্ত বাড়ির এক চিলতে ফালতু রকটি লোপাট হয়ে যাওয়ায় তারা পথে এসে দাঁড়িয়েছে।

. আমি বললুম, না ওখান দিয়েই যাব, কবিরওখান দিয়েই যেতে চাওয়ার কারণ কী

উঃ কবির ‘খান’ দিয়ে যাওয়ার কারণ হল—ওখান দিয়ে গেলে তাঁর শর্টকাট হয়।

.ওই দেখতে পাচ্ছেন না ভিড়’  ওখানে কীসের ভিড় ?

উঃ এক বেওয়ারিশ ভিখারি গাড়ি চাপা পড়ায় ওখানে মানুষের ভিড় জমেছে।

. কে সে লোক ? –‘লোক’-টির পরিচয় দাও। 

উঃ লোকটি হল সহায়সম্বলহীন এক বেওয়ারিশ ভিখিরি। সে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে।

.৭। চেঁচিয়ে উঠল সমস্বরে…’—কী বলে তারা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল ? 

উঃ  দুর্ঘটনাগ্রস্ত ভিখিরিটিকে ট্যাক্সিতে তোলার সময় ছেলে গুলি বুঝতে পারে যে সে জীবিত, তাই তারা  দেহে প্রাণ আছে, প্রাণ আছে বলে সমস্বরে চিৎকার করে উঠেছিল।

.আমি নেমে পড়লুম তাড়াতাড়ি‘—কবি তাড়াতাড়ি নেমে পড়লেন কেন

উঃ কবি ভিখিরির দেহের রক্তের দাগ থেকে তথাকথিত  ভদ্রতা ও শালীনতাকে বাঁচানোর জন্য তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন।

.ফিরে আসতেই দেখি…’ ফেরার পথে কবি কী দেখতে পেলেন ? 

উঃ  ফেরার পথে কবি দেখলেন, গলির মোড়ে শুকনো প্রেতরুপ গাছটি সোনালি কচি পাতায়, গুচ্ছ গুচ্ছ ফুলে, ফুলের সুবাসে-গন্ধে আর রং-বেরঙের পাখিতে ভরে গিয়েছে।

.১০অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে দেখলুম’ –কবির চোখে অবিশ্বাসের ঘোর কেন

উঃ আপাত প্রাণহীন, শুষ্ক, নীরস, রুক্ষ গাছের মধ্যে হঠাত লুকোন অন্তহীন সজীব প্রাণের প্রকাশ দেখে কবির চোখে অবিশ্বাসের ঘোর লেগে যায়।

নির্দেশ অনুসারে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও

., ওই পথ দিয়ে/জরুরি দরকারে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে।কবির যাত্রাপথের অভিজ্ঞতার বিবরণ দাও। 

উঃ কবি তাঁর এক বিশেষ প্রয়োজনে ট্যাক্সি করে যাচ্ছিলেন। যাবার পথে গলির মোড়ে তিনি দেখেন একটি মৃত  গাছ শূন্যের দিকে এলোমেলো ভাবে কতকগুলি শুকনো কাঠির কঙ্কাল নিয়ে , লতা পাতাহীন , রুক্ষ, রুষ্ট, ছালবাকলশুণ্য সবুজের চিহ্নবিহীন  গাছের প্রেতচ্ছায়া রূপে  দাড়িয়ে আছে । কিছুদূরে কয়েকজন ছন্নছাড়া বেকার যুবক দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিল ।তাদের  দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, গাড়ির চালক সে দিক দিয়ে যেতে চাইলেন না। কারণ, তাদের সামনে গেলেই তারা গাড়ি থামিয়ে লিফট চাইবে। কিন্তু ওদিক দিয়ে গেলে কবির শর্টকাট হয় বলে, তিনি ড্রাইভারকে জোর করে নিয়ে গেলেন। তাদের সামনে হাজির হতেই জিজ্ঞাসা করলেন, তাদের ট্যাক্সি লাগবে কি না। সঙ্গে সঙ্গে তারা আনন্দের সঙ্গে চিৎকার করে বলে উঠে কবিকে নিয়ে হাজির হয় এক মানুষের জটলার কাছে । সেখানে গাড়ি চাপা পড়া এক অসহায় বেওয়ারিশ ভিখিরি পড়ে ছিলো তারা সেই রক্তে-মাংসে দলা পাকিয়ে যাওয়া ভিখিরিটিকে পাঁজাকোলা করে ট্যাক্সিতে তুলতে তুলতে সমস্বরে চেঁচিয়ে বলে ওঠে “প্রাণ আছে, প্রাণ আছে”। কবি রক্তের দাগ থেকে নিজের তথাকথিত ভদ্রতা ও শালীনতাকে রক্ষা করতে গিয়ে কবি গাড়ি থেকে নেমে গেলেন।

. গলির মোড়ে একটা গাছ দাঁড়িয়ে গাছ না গাছের প্রেতচ্ছায়া— —একটি গাছ দাঁড়িয়ে আছে বলেও কেন পরের পঙক্তিতে তাকেগাছের প্রেতচ্ছায়াবলা হয়েছে তা বুঝিয়ে দাও।

উঃ গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটিকে দেখে কবির প্রথমে গাছ বলে মনে হলেও পরবর্তীকালে তাঁর মনে হয়েছে, সেটি গাছের প্রেতচ্ছায়া। কারণ, এদিকে-ওদিকে বাঁকানো কতকগুলি শুষ্ক কাঠির কঙ্কালের মতো তার ডালপালা  শূন্যের দিকে তোলা ছিল। সেগুলি এতটাই রুক্ষ-রিক্ত-জীর্ণ যে, তার শরীরের কোথাও কোন লতাপাতা, ছাল-বাকলের চিহ্ন নেই। নেই কোথাও এক বিন্দু সবুজের প্রতিশ্রুতি বা আভাস এবং সামান্যতম রসের সম্ভাবনা। তাই গাছটিকে কবি ‘গাছের প্রেতচ্ছায়া’ বলেছেন ।

. ওই পথ দিয়ে/জরুরি দরকারে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে।এভাবে কবিতায় উত্তমপুরুষের রীতি কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, অন্তত পাঁচটি পঙক্তি উদ্ধৃত করে বুঝিয়ে দাও।

উঃ আলোচ্য কবিতাটিতে বেশ কয়েকটি উত্তম পুরুষের রীতি ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন- (১) “ওই পথ দিয়ে জরুরী কাজে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে”, (২) “জিজ্ঞেস করলুম, তোমাদের ট্যাক্সি লাগবে?” (৩) “ওখান দিয়েই আমার শর্টকাট”, (৪) “ফিরে আসতেই দেখি”, (৫) “অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে দেখলুম”—উল্লিখিত প্রতিটি চরণেই উত্তম পুরুষের রীতি ব্যবহার করা হয়েছে ।

.কারা ওরা ?’—কবিতা অনুসরণে ওদের পরিচয় দাও।

উঃ আলোচ্য কবিতাটিতে ওরা বলতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দেওয়া একদল ছন্নছাড়া যুবকের কথা বলা হয়েছে। ওরা আসলে সমাজের শিক্ষিত যুবকের দল যারা বেকারত্ব ও দারিদ্রতার স্বীকার। ওরা হচ্ছে, এক বিরাট নৈরাজ্যের অধিবাসী। ওদের বাস্তুভিটে রীতি-নীতি, আইন-কানুন, বিনয়-ভদ্রতা, শ্লীলতা-শালীনতা কিছুই নেই। ওদের জন্য কলেজে সিট নেই, অফিসে চাকরি নেই, কারখানায় কাজ নেই, ট্রামে-বাসে বসার জায়গা নেই, হাসপাতালে শয্যা নেই। এমনকি তাদের জন্য খেলার মাঠে স্থান নেই, অনুসরণ করার মতো যোগ্য নেতা নেই, কর্মে প্রেরণা সৃষ্টিকারী ভালোবাসাও নেই। আপনজনের সম্ভাষণে সহানুভূতি নেই। ওরা একদল ছন্নছাড়া, বেকার যুবক।

.ঘেঁষবেন না ওদের কাছে। এই সাবধানবাণী কে উচ্চারণ করেছেন ? ‘ওদেরবলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে ? ওদের কাছে নাঘেঁষার পরামর্শ দেওয়া হল কেন ?

উঃ উদ্ধৃত  সাবধান বাণীটি উচ্চারণ করেছেন গাড়ির অর্থাৎ, ট্যাক্সির চালক।

    ‘ওদের’ বলতে তথাকথিত একদল ছন্নছাড়া বেকার যুবকদের বোঝানো হয়েছে।

      ‘ছন্নছাড়া কবিতার ‘ওরা সমাজের নৈরাজ্যের মানুষ। ড্রাইভারের মতে  ওদের বাস্তুভিটে রীতি-নীতি, আইন-কানুন, বিনয়-ভদ্রতা, শ্লীলতা-শালীনতা কিছুই নেই। ওরা কেবল অকারণ সময় নষ্ট করে অন্যের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। তাই ওদিক দিয়ে গেলে অহেতুক তারা লিফট চাইতে পারে, আর তাতে সেই চাওয়াকে উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাতে তাদের অকারণ দেরি হবার সম্ভাবনা থাকে। সেকারণেই বক্তা ওদের কাছে না-ঘেঁষার পরামর্শ দিয়েছেন।

.৬। তাই এখন এসে দাঁড়িয়েছে সড়কের মাঝখানে।এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে ? তাদের জীবনের এমন পরিণতির কারণ কবিতায় কীভাবে ধরা পড়েছে তা নির্দেশ করো। 

উঃ এখানে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেওয়া চোঙা প্যান্ট পরিহিত  রুক্ষ মেজাজ ও ভাগ্যপিড়ীত একদল ছন্ন ছাড়া বেকার যুবকদের কথা বলা হয়েছে।

     তাদের জীবনে এমন পরিস্থিতির কারণ হল সমাজে সৃষ্টি হওয়া অরাজকতা ও বেকারত্ব যা শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্বের অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে । ওদের জন্য কলেজে সিট নেই, অফিসে চাকরি নেই, কারখানায় কাজ নেই, ট্রামেবাসে বসার জায়গা নেই। এক কথায় ভদ্রসমাজের কোন সুযোগ-সুবিধাই নেই। টাকা ও ক্ষমতার অভাবে মেলায় বা খেলায় টিকিট নেই, হাসপাতালে শয্যা নেই, খেলার জন্য মাঠ নেই, উদ্দীপিত করার মতো  যোগ্য নেতা নেই। ওদের প্রতি কারও কোনো সহানুভূতি নেই। তাই, এক মধ্যবিত্ত বাড়ির এক চিলতে অপ্রয়োজনীয় রোয়াক ছিল তাদের আড্ডা দেওয়ার জায়গা। তাও চলে যাওয়ায় তারা অবশেষে সড়কের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছে।

.জিজ্ঞেস করলুম, তোমাদের ট্যাক্সি লাগবে ? প্রশ্নবাক্যটিতে প্রশ্নকর্তার কোন অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে ? তাঁর এই প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়ার পর কীরূপ পরিস্থিতি তৈরি হল ?

উঃ  আলোচ্য প্রশ্নবাক্যটিতে প্রশ্নকর্তার সহানুভূতিশীল দরদি মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে। বেকার, ছন্নছাড়া যুবকদের প্রতি সহানুভুতি প্রকাশের জন্যই তিনি প্রস্তাবটি করেছিলেন।

 » প্রশ্নকর্তা প্রশ্নটি করা মাত্রই সেই ছন্নছাড়া বেকার যুবকগুলি একসঙ্গে উৎসাহে চিৎকার করে ওঠে “পেয়ে গেছি পেয়ে গেছি” বলে। সঙ্গে সঙ্গে তিন তিনটি যুবক উঠে পড়ে ট্যাক্সিতে। সামনের ভিড় দেখিয়ে একজন বলে, ভিড়টি কোনো জলসা চিত্রতারকার জন্য নয়। একটি গাড়ি এক বেওয়ারিশ ভিখিরিকে চাপা দিয়ে চলে গিয়েছে। তাদের কয়েকজন গাড়িটিকে ধাওয়া করেছে আর তারা ফাঁকা ট্যাক্সি খুঁজছিল। ভিড়ের কাছে যাওয়াতে রাস্তার মাঝখানে রক্তে-মাংসে দলা পাকানো ভিখিরির শরীরটিকে তারা পাঁজাকোলা করে তুলে নেয় ট্যাক্সিতে। ট্যাক্সিতে তোলার সময় তারা বুঝতে পারে যে ভিখিরিটি এখনও বেঁচে আছে, তখন তারা উল্লাসে চেঁচিয়ে উঠে তার বেঁচে থাকার দাবিকে সমর্থন জানায় ও ট্যাক্সিকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যেতে বলে।

.৮। প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে। এই দুর্মর আশাবাদেরতপ্ত শঙ্খধ্বনিকবিতায় কীভাবে বিঘোষিত হয়েছে তা আলোচনা করো। 

উঃ একটি বেওয়ারিশ ভিখিরি গাড়ি চাপা পড়ায় একদল ছন্নছাড়া বেকার যুবক ফাঁকা ট্যাক্সি খুঁজছিল এবং সেটি পেয়ে যাওয়ায় গাড়িটিকে নিয়ে তাড়াতাড়ি তারা ঘটনাস্থলে যায়। রক্তে-মাংসে দলা পাকিয়ে যাওয়া ভিখিরির শরীরটিকে তারা পাঁজাকোলা করে তুলে নেয় ট্যাক্সিতে। শরীরটি তোলার সময়ই তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে চেঁচিয়ে ওঠে—শরীরটিতে এখনও প্রাণ আছে বুঝতে পেরে। এইভাবেই শহরের ইট-কাঠ পাথরে পরিবেষ্টিত দয়া-মায়াহীন পরিবেশের মধ্যে থেকে একটি মায়া-মমতাপূর্ণ বিশ্বাসের জয় শঙ্খধ্বনি ধ্বনিত হয়ে উঠে—“প্রাণ আছে, প্রাণ আছে” কথাগুলির মাধ্যমে। কারণ, প্রাণ থাকলেই মর্যাদা থাকে এবং সমস্ত বাধা প্রতিবন্ধকতার বাইরেও থাকে অস্তিত্বের অধিকার। এখানে মৃতপ্রায় ভিখারি যেন মরতে বসা সমাজের রুপক, কিন্তু এই সর্বহারা ছন্নছাড়া যুবকদের মানবিকতার ছোঁয়ায় তাতে প্রান ফিরে এসেছে।

. কবিতায় নিজের ভব্যতা শালীনতাকে বাঁচাতে চাওয়া মানুষটির ছন্নছাড়া‘-দের প্রতি যে অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে তা বুঝিয়ে দাও।

উঃ কবিতায় নিজের ভব্যতা ও শালীনতাকে বাঁচাতে চাওয়া মানুষটি হলেন কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত ।

             কবি গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা একদল বেকার ছেলেদের প্রতি সহানুভুতি প্রকাশের উদ্দ্যেশে তাদের কাছে গিয়ে কবি জিজ্ঞাসা করেন তাদের ট্যাক্সি লাগবে কি না। কবি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন তাদের দুর্দশাকে। যদিও পরবর্তীকালে তাদের পরোপকারী সুলভ মানসিকতা দেখে তিনি তফাতে সরে গিয়েছেন কারন তাদের মতো সবটুকু দিয়ে নিজের ভদ্রতা বিসর্জন দেবার মতো ক্ষমতা তার ছিল না । তবু এই কর্কশ-নীরস ইট-কাঠপাথর পরিবেষ্টিত পরিবেশের মধ্যেও তার এই আচরণ আসলে  ‘ছন্নছাড়া’ বলে পরিচিতদের প্রতি কবির আন্তরিক সহানুভূতিপূর্ণ অনুভূতির প্রকাশ ।

.১০ কবিতায়গাছটি কীভাবে প্রাণের প্রতীক হয়ে উঠেছে তা আলোচনা কর।

উঃ আলোচ্য কবিতায় গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাছকে দেখে কবির মনে হয়েছিল, সেটি গাছের প্রেতচ্ছায়া। কারণ, আঁকা-বাঁকা শুকনো কতকগুলি কাঠির কঙ্কালের মতো গাছটির ডাল-পালাগুলি শূন্যে তোলা ছিল। আহত ভিখারি যেভাবে রক্তে-মাংসে দলা পাকিয়ে পড়েছিল তাতে তার শরীরে প্রাণের উপস্থিতি নিয়ে সংশয় ছিল। তা ছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দেওয়া ছন্নছাড়া যুবকদের দেখেও বোঝার উপায় ছিল না তাদের মধ্যেও দয়া-মায়া এবং পরোপকারী সুলভ মন লুকিয়ে আছে। অর্থাৎ গাছটি যেন এই মৃতপ্রায় সমাজের প্রতীক। পরে দেখা গেল সেই বেকার যুবকদল কোনো প্রত্যাশা না রেখে, সমজের অবহেলিত দলাপাকানো ভিখারিকে নিয়ে হাসপাতালের ছুটেছিল। তাদের এই মানবিক কাজ যেন এই ক্ষয়িষ্ণু সমাজে প্রান ফিরিয়ে আনল। তাই কবি যখন ফিরছেন, তখন তিনি দেখতে পান—গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কঙ্কালসার গাছটির মধ্যেও কচি-কচি পাতার চিহ্ন দেখা দিয়েছে। প্রানের লক্ষন ফুটে উঠেছে তাতে ।এভাবেই গাছটি প্রাণের প্রতীক হয়ে উঠেছে কবিতায় ।

.১১এক ক্ষয়হীন আশা। এক মৃত্যুহীন মর্যাদা।‘—প্রাণকে কবির এমন অভিধায় অভিহিত করার সংগত কারণ নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ করো। 

উঃ ‘ছন্নছাড়া কবিতায় কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত প্রাণকে’ দুটি বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন। প্রথমত, এক ক্ষয়হীন আশা’—যে আশা বা আকাঙ্ক্ষার কখনও ক্ষয় হয়। বা সমাপ্তি হয় না। দ্বিতীয়ত, এক মৃত্যুহীন মর্যাদা’ অর্থাৎ, যে মর্যাদা অমর । আপাত দৃষ্টিতে রাস্তায় চাপা পড়া বেওয়ারিশ ভিখিরি, রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দেওয়া ছন্নছাড়া যুবকের দল এদের দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে সমাজ এখনও বেঁচে আছে। কিন্তু যখন বেকার যুবকদল কোনো প্রত্যাশা না রেখে, সমজের অবহেলিত দলাপাকানো ভিখারিকে নিয়ে হাসপাতালের ছুটেছিল তখন  তাদের এই মানবিক কাজ যেন এই ক্ষয়িষ্ণু সমাজে প্রান ফিরিয়ে আনল। অর্থাৎ সমাজের বেঁচে ওঠার আশার কোন ক্ষয় নেই, আর প্রাণ থাকলেই মর্যাদা থাকে এবং সমস্ত বাধা প্রতিবন্ধকতার বাইরেও থাকে অস্তিত্বের অধিকার।

8 নীচের প্রতিটি শব্দের দল বিভাজন করে দেখাও : এলোমেলো, ছন্নছাড়া, নৈরাজ্যে, বাসিন্দে, শালীনতা, আত্মীয়তা, শঙ্খধ্বনি, পত্রপুঞ্জে।

এলোমেলো = এ -লো – মে – লো (মুক্তদল—এ, লো, মে, লো (৪টি), রুদ্ধদল—শূন্য]।

ছন্নছাড়া = ছন্ – ন – ছা – ড়া (মুক্তদল-ন, ছা, ড়া (৩টি), রুদ্ধদল-ছন্ (১টি)] ।

নৈরাজ্যে = নৈ – রাজ্ –  জে [মুকদল — নৈ, জে (২ টি), রুদ্ধদল -রাজ্ (১টি)]।

বাসিন্দে = বা – সিন্ – দে [মুক্তদল-বা, দে (২ টি), রুদ্ধদল-সিন (১টি)]।

শালীনতা = শা- লী – ন – তা [মুক্তদল– শা, লী, ন, তা (৪টি), রুদ্ধদল—শূন্য] ।

আত্মীয়তা = আত্ – তী – য় – তা (মুক্তদল—তী, য়, তা (৩টি), রুদ্ধদল—আত (১টি)] ।

শঙ্খধ্বনি = শঙ্ – খ- ধ্ব – নি (মুক্তদল—খ, ধ্ব, নি (৩টি), রুদ্ধদল—শঙ্ (১টি)]।

পত্রপুঞ্জে = পত্ -ত্র -পুন্-  জে (মুক্তদল -ত্র  , জে (২ টি), রুদ্ধদল – পত, পুন্ (২ টি)]।

নীচের প্রতিটি শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় কর: বর্তমান, ভদ্রতা, সম্ভাষণ, গতি, ভিখিরি, ভব্যতা, রুষ্ট, জিজ্ঞেস, পিছে।

বর্তমান =বৃৎ + শানচ  (মান)।

ভদ্রতা  =ভদ্র + তা।

সম্ভাষণ = সম্ – ভাস্ + অনট।

গতি =গম্+ক্তি।

ভিখিরি = ভিখ + আরি (ইরি)।

 ভব্যতা = ভূ + য (র্তৃ)+ তা।

রুষ্ট = রুষ্ + ত (র্তৃ )।

জিজ্ঞেস = জ্ঞা-সন্ + এ + অ ।

পিছে = পিছ্  + এ ।

নীচের শব্দগুলিতে ধ্বনি পরিবর্তনের কোন্ কোন্ নিয়ম কাজ করেছে তা দেখাও : জুতো, বাসিন্দে, ক্ষেত, চোখ, কদ্দুর , ভিখিরি।

জুতো = জুতা > জুতো (স্বরসংগতি)।

 বাসিন্দে = বাসিন্দা > বাসিন্দে (স্বরসংগতি)।

ক্ষেত = ক্ষেত্র > ক্ষেত (ধ্বনিলোপ)।

চোখ = চক্ষু > চোখ (সমীভবন)।

কদ্দুর =কত দূর >কদ্দুর (পরাগত সমীভবন)।

ভিখিরি =  ভিখারি > ভিখিরি (স্বরসংগতি)।

নিম্নলিখিত পদগুলির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো : প্রেতচ্ছায়া, ছালবাকল, ক্ষুধাহরণ, সোল্লাসে, স্নেহার্দ, শঙ্খধ্বনি।

প্রেতচ্ছায়া = প্রেতের ছায়া। (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)

ছাল-বাকল = ছাল ও বাকল। (সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস)

ক্ষুধাহরণ = ক্ষুধাকে হরণ। (কর্ম তৎপুরুষ সমাস)

সোল্লাসে = উল্লাসের সহিত বর্তমান। (সহাৰ্থক বহুব্রীহি সমাস)

স্নেহার্দ = স্নেহ দ্বারা আর্দ্র। (করণ তৎপুরুষ সমাস)

শঙ্খধ্বনি = শঙ্খের ধ্বনি। (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)

কোন শব্দে কী উপসর্গ আছে আলাদা করে দেখাও : প্রতিশ্রুতি, বেওয়ারিশ, অনুসরণ, প্রচ্ছন্ন, অভ্যর্থনা, অধিকার।

প্রতিশ্রুতি = প্রতি-উপসর্গ।

বেওয়ারিশ = বে-উপসর্গ (বিদেশি উপসর্গ)।

অনুসরণ = অনু-উপসর্গ।

প্রচ্ছন্ন প্র-উপসর্গ।

অভ্যর্থনা = অভি-উপসর্গ।

অধিকার = অধি-উপসর্গ।

নির্দেশ অনুযায়ী বাক্য পরিবর্তন করো

৯.১ ওই পথ দিয়ে জরুরি দরকারে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে। (জটিল বাক্যে) 

–ওই যে পথ সেখান দিয়ে জরুরি দরকারে যাচ্ছিলাম ট্যাক্সি করে।

৯.২ দেখছেন না ছন্নছাড়া কটা বেকার ছোকরা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। (যৌগিক বাক্যে) 

–দেখছেন না ছন্নছাড়া কটা বেকার যুবক রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এবং আড্ডা দিচ্ছে।

৯.৩ কারা ওরা ? (প্রশ্ন পরিহার করো) 

–ওদের পরিচয় জানতে চাইছি।

৯.৪ ঘেষবেন না ওদের কাছে। (ইতিবাচক বাক্য)

–ওদের কাছে ঘেঁষা থেকে বিরত থাকুন।

৯.৫ একটা স্ফুলিঙ্গ-হীন ভিজে বারুদের স্থূপ। (না-সূচক বাক্যে)

–একটা স্ফুলিঙ্গ-হীন ভিজে বারুদের স্কুপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

৯.৬ জিজ্ঞেস করলুম, তোমাদের ট্যাক্সি লাগবে ? (পরোক্ষ উক্তিতে) 

— তাদের ট্যাক্সি লাগবে কি না জিজ্ঞাসা করা হল।

৯.৭। আমরা খালি ট্যাক্সি খুঁজছি।(জটিল বাক্যে)  

–আমরা এমন ট্যাক্সি খুঁজছি যা খালি।

৯.৮ দেখতে দেখতে গুচ্ছে গুচ্ছে উথলে উঠেছে ফুল। (ক্রিয়ার কাল নির্দেশ কর)  

–পুরাঘটিত বর্তমান কাল।

Click Here  To Download The PDF

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.